শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই
চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মানবাধিকার কর্মী নাভেনথাম নাভি পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়। নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন।এ ছাড়া তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তার সেই অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন কানাডীয় সাহিত্যিক অ্যান কারসন। ৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসন কবিতা ও গদ্যের মিশ্রণে তৈরি তার ব্যতিক্রমী লেখার জন্য পরিচিত। সমকালীন গল্পের সঙ্গে প্রাচীন পুরাণের সমন্বয়ও তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। এতে গ্রিক পুরাণের বীর হেরাক্লিসকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে এবং সমকামী এক তরুণের বেড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।এর আগের দিন বুধবার রসায়নে নোবেল পান ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি কাগান ও জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। অ্যাসিমেট্রিক জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার প্রভাব এবং অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা করা হয়। অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল বা মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেনকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।ফ্রান্সিস হ্যালজেন প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন যে অ্যান্টার্কটিকার বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো নামে পরিচিত কণাগুলোর গতিপথ শনাক্ত করা সম্ভব।সোমবার চিকিৎসায় নোবেল প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর চিকিৎসায় যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল।‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস’ আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরস্কার পান তারা।নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা পাবেন একটি মেডেল, একটি সনদপত্র এবং মোট ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। যা প্রায় ৯ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সমান। যেসব বিভাগে একাধিক নোবেলজয়ী থাকবেন, তাদের মধ্যে এই অর্থ ভাগ হয়ে যাবে।বিজ্ঞান, শান্তি ও সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।