প্যারোলে মুক্তির পেয়ে পরলোকগত মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অঝোরে কাঁদলেন সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কারাগার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি শেষকৃত্যে উপস্থিত হন। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। এর আগে মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য তার ভাই অঞ্জন কুমার ধর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আবেদনটি অনুমোদন করেন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ৫ ঘন্টার জন্য তাকে কারাগার থেকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে বেলা ৩ টা ৪০ মিনিটে তাকে কারাগার থেকে বের করা হয় এবং বিকাল ৫ টা ৫ মিনিটে তাকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ পুণ্ডরীক ধামে আনা হয়। পরে তার মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬ টা ৩২ মিনিটে পুণ্ডরীক ধাম থেকে পুনরায় চট্টগ্রাম কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাটহাজারীর উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাতা ক্যান্সার আক্রান্ত সন্ধ্যা রাণী ধর (৭০) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
২৮ দিন আগে
মদ-গাজা, গাম, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ-আইস, হেরোইনসহ কি নেই। সব ধরণের মাদকে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা। যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। শুধু ভাসছে না, এসব মাদক বিক্রয় ও সেবনে পুরো অস্থির চট্টগ্রাম।মাদকসেবি কারা ও মিলছে কোথায়প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, বয়স ও শ্রেণি ভেদে এসব মাদক সেবন হয়। যেমন মদ-গাজা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল সেবন করে নিম্ন শ্রেণি থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণি পর্যন্ত। যা মিলছে নগরীর আিলগলি থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবে। সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর অন্তত ৫০০ স্পট ও জেলার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিলছে এসব মাদক।আর বিদেশি মদ উচ্চবিত্তদের সুপেয় খাবার, যা মিলে নগর ও জেলার বিভিন্ন অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্লাবে। একই সাখে হেরোইন ও ক্রিস্টাল মেথ-আইসও সেবন করছে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই। একমাত্র ইয়াবা সেবনে নেই কোন শ্রেণি বিভেদ। সহজলভ্য হওয়ায় ইয়াবা এখন সব শ্রেণি পেশার মাদক সেবির খাবার।অনেক নিংস্ব বেকার যুবকেরাও এই ইয়াবা সেবন করে থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে-শিশু-কিশোররা পর্যন্ত বাদ নেই মাদক সেবন থেকে। বিশেষ করে নগরীর মোড়ে মোড়ে পথশিশুরা এক ধরণের গাম সেবন করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।আর এই মাদক কিনতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। ডাকাতির মতো ঘটনার সাথেও জড়িত হচ্ছে তরুণ-কিশোর ও পথশিশুরা। এমনকি নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যার প্রভাবে জর্জরিত শহর-বন্দর ও সমাজ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক বিক্রয় ও সেবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি জড়িত। এরপর রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। বাকি অন্যান্য সম্প্রদায়ও মাদক বিক্রয় ও সেবনে জড়িত। অথচ ইসলামসহ সব ধর্মে মাদক সেবন হারাম বা নিষিদ্ধ।রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্যতম পেশা মাদক ব্যবসাপ্রত্যন্ত এলাকার সচেতন মানুষের মতে, সমাজের সবচেয়ে হতদরিদ্র বেকার যুবকরা এক সময় দেশে তৈরি চোলাই মদ ও গাজা বিক্রি করত। যা তাদের আয়ের একমাত্র পথ ছিল। অত্যন্ত গোপনে আড়ালে আবডালে থেকে মদ ও গাজা বিক্রি করতেন তারা।আর যারা সেবন করতেন তারাও এক সময় আয়ের পথ হিসেবে মদ-গাজা বিক্রি শুরু করে। আর এ কাজ করতে গিয়ে নিকটস্থ থানা পুলিশকে মাসোহারা হিসেবে নিদিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতেন। দিতে হতো মদ গাজাও। যা সেবন করতেন থানা পুলিশও। এই সহজ পথ সুগম হওয়ায় মাদকের বিস্তৃতি ঘটে নগর-বন্দর থেকে অলিগলি পর্যন্ত।যা নজরে পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। যারা মাদক বিক্রেতাদের সাথে মিশে শুরু করে মাদক ব্যবসা। যার প্রসার এখন দিগন্ত ছোঁয়া। ব্যবসার সুবিধার্থে তারা ব্যবহার করে দলীয় পদ-পদবি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে এখন চলছে মাদক ব্যবসা। এর মধ্যে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা। ক্রিস্টাল মেথ-আইস ও হেরোইন বেচাকেনা।রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে দিনের বেলায় টেন্ডারবাজী, দখলবাজী করলেও গোপনে করছে মাদক ব্যবসা। দলীয় নেতাকর্মীদের সিংহভাগের পেশা এখন মাদক ব্যবসা। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকে দেশের অসৎ লোকেরা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসায়ী, বাহক ও বিক্রির নেটওয়ার্কে প্রতি বছরই লোকসংখ্যা বাড়ছে। এদের সাথে দারুণ সখ্যতা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে। এতে অসহায় সাধারণ মানুষ।সিএমপির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত ৯০ জনের একটি তালিকা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরেকটি তালিকা করা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকদের। এই তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনীতিক ও থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নামও আছে।এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নাম রয়েছে এ তালিকায়। রয়েছে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন, শৈবাল দাস সুমন, এসরারুল হক এসরার, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুর নামও।যারা নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত শত শত নেতাকর্মী দিয়ে মাদক বিক্রয় ও পাচার করেন। একই পথে রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শত শত প্রভাবশালী নেতাকর্মী। নতুন তালিকা না হওয়ায় যাদের নাম এখনো পর্যন্ত তাািলকাভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম মাদক পরিবহনের প্রধান রুট। এর সঙ্গে কিছু গডফাদার যুক্ত। গডফাদার ও ব্যবসায়ীদের তালিকা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাদক পাচার ও সেবনে খোদ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীদেশে মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অর্ধিদপ্তর, পুলিশ-আনসার-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকলেও মূলত সংস্থাগুলোর সদস্যরাও লিপ্ত মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয়ে। যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।মাদকের সাথে জড়িত থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। যার মধ্যে পুলিশ ও আনসার সদস্য বেশি। যারা চাকরি হাারিয়েও ছাড়েনি মাদক বিক্রয়, পাচার ও সেবন। বরং উল্টো আঁকড়ে ধরেছেন মাদক ব্যবসাকে। ফলে থেমে নেই মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়।গত ২০ আগস্ট এক অভিযানে মিলেছে এর প্রমাণ। সেদিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবার আসর থেকে চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমান আদালত। আদালত তাদের তিন মাসের কারাদন্ড দেন।নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। ইয়াবা পাচারের দায়ে দু‘বছর আগে চাকরি হারান তিনি। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ডিবি-দক্ষিণ), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শেখ শরীফুল ইসলামের তথ্য মতে, গত কয়েকবছরে মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসার সদস্যের চাকরি গেছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছেন।তবে অভিযোগ উঠেছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়-তখন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ঠিক তেমনি পরিস্থিতি এখন চট্টগ্রামের। নগরবাসীর ভাষ্য, সন্ধ্যা থেকে রাত দূরের কথা, দিনে-দুপুরেও অনেক পুলিশ সদস্য মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশই হয় ইয়াবা আসক্ত, নয় তো মদ্যপ। যারা মানুষের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করে। মানুষ যখন বুঝতে পারে তিনি নেশাগ্রস্ত তখন সেদিকে কান না দিয়ে চলে যায় নিজ গন্তব্যে। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছে।চট্টগ্রামে মাদকের স্পটনগরবাসীর মতে, চট্টগ্রাম শহরের সবগুলো প্রধান সড়ক ও উড়াল সড়কের নিচে বসে দিনে দুপুরে মদ-গাজা সেবন করে কিশোর থেকে উঠতি যুবকরা, এমনকি মধ্যবয়সী লোকজনও। রেল স্টেশন, বাস স্টেশনগুলো যেন মদ গাজা সেবনের নিরাপদ জায়গা।এছাড়া বরিশাল কলোনি, চট্টগ্রাম কদমতলী বাস টার্মিনাল, মতিঝরনা, এনায়েতবাজার গোয়ালপাড়া, বায়েজিদ শের শাহ কলোনি, অক্সিজেন মোড়, ফিরোজ শাহ কলোনি, অলংকার মোড়, পাহাড়তলী, টাইগারপাস, বাটালি হিল চান্দগাঁও মাদকের সবচেয়ে বড় বাজার।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ৪-৫ বছর বয়সী পথশিশুরা পর্যন্ত মদ গাজা ও গাম জাতীয় মাদক সেবন করে। তাদের এসব দেখে না কোনসময়। পুলিশ এদের পাশ দিয়ে হেটে যায়, আর গালি দিয়ে বলে খা, খানকির পোলারা, খেয়ে মর। অলি গলি পেরিয়ে এবার চোখ দেয়া যাক চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টের দিকে।নগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় অবস্থিত অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লু-বে, চট্টগ্রাম ক্লাব, জিইসির মোড়ে অবস্থিত পেনিনসুলা, আগ্রাবাদে অবস্থিত হোটেল আগ্রাবাদ, হোটেল সেন্টমার্টিন, পতেঙ্গা বোট ক্লাব, নন্দনকানন পুলিশ প্লাজাসহ থ্রি স্টার থেকে ফাইভ স্টার মানের সবগুলো হোটেলে দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য সেবনের নিরাপদ স্পট।এসব হোটেলের বারগুলো যেন একেকটা পাপপুরি। ইয়াবা থেকে নিয়ে সব ধরণের দেশি-বিদেশি মাদক মিলে এসব হোটেলে। দেশের শিল্পপতি ও রাজনীতিকরা এসব পাপপুরির খদ্দের। আর এসব হোটেলে মাদক বিক্রয় ও সেবনের লাইসেন্স দেয় মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর। ফলে এসব হোটেলের দিকে চোখ তুলে থাকায় না প্রশাসনের কেউ।মাদক ব্যবসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, মাদক বেচাকেনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ খাতে ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স ও জোত পারমিট দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেগুলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মাদক সরবরাহ করা হয়।এক্ষত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খাতগুলোর তালিকা প্রকাশ করলেও লাইসেন্স বা জোত পারমিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম গোপন রেখেছে। যার কারণে প্রতিষ্টানগুলোর নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর খাতগুলো হলো :১. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) ব্যবহারের পারমিট২. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স৩. প্রিকারসর কেমিক্যাল/ সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স আমদানী রপ্তানী লাইসেন্স৪. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণলাইসেন্স৫. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স মজুদ ও পাইকারী বিক্রয় লাইসেন্স৬. প্রিকারসর কেমিক্যাল খুচরা বিক্তির লাইসেন্স৭. প্রিকারসর কেমিক্যাল ব্যবহারের পারমিট৮. বিলাতীমদের বন্ধেত পণ্যাগার লাইসেন্স৯. বিলাতীমদের আমদানী/রপ্তানী লাইসেন্স১০. বিলাতীমদের ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশন১১. বিলাতীমদ মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স১২, বিলাতীমদ মজুদ ও খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স (অফ শপ)১৩. হোটেল, বেস্তোরা, হোটেল কাম রেস্তোরা, বিনোদন কেন্দ্র, বিমান কন্দর, রিসোর্ট থিমপার্ক ইত্যাদি স্থানে বারও বিলাতী মদ খুচরা বিক্রম/পরিবেশন লাইসেন্সঃ১৪. বিলাতীমদের ক্লাব লাইসেন্স১৫. বিলাতীমদ ডিউটি ফি শপ১৬. বিলাতীমদের লেট ক্লোজিং লাইসেন্স (রাত ১০ টার পর সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা)১৭. দেশীমদ খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স১৮. ইথানল আমদানি লাইসেন্স১৯. ইবানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২০. ইথানল ব্যবহার২১. ইবানল খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২২. মিথানল আমদানি২৩. মিথানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২৪. মিথানল ব্যবহার২৫. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) আমদানি লাইসেন্স২৬. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) ব্যবহারের লাইসেন্স২৭. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২৮. বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট।এ্যাবসলিউট ২৯. এ্যালকোহল/ইখাইল এ্যালকোহল/স্ট্রং এ্যালকোহল (এইচ এস কোড-২২০৭) মজুদ ও ব্যবহারের পারমিট৩০. হোামিওপ্যাথিক ঔষধ প্রসম্মুতের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট/স্টং এ্যালকোহল ইবাইল এ্যালকোহল (ইবাইল)(এইচ এস কোড -২২০৭) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ঔষধ (মাদার টিংচার) তৈরীর উপাদান হিসেবেব্যবহারের পারমিট।৩১. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কর্তৃক ঔষধ শক্তিকরণ (ডাইলুশন) এর জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট মজুম৩২. ডিফোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (মহানগর এলাকা)৩৩. ডিকোর ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (অন্যান্য এলাকা)৩৪. ডিনেচার্য ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (মহানগর এলবাম)৩৫. ডিকোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (অন্যান্য এলবাম)৩৬. ডিকোর্ড ¯িপরিট ব্যবহারের পারমিট৩৭. মাদকাসক্তির পরামর্শ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের লাইসেন্সদেশের ১০৫ পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে বিদেশি মাদকওদেশের সীমান্ত, বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকাগুলো দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদক। এমনকি আকাশপথ ও কুরিয়ার সার্ভিস দিয়েও আসছে নিত্যনতুন মাদক। ১৮টি সীমান্ত জেলার ১০৫টি পয়েন্টকে মাদকের সেফ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তারা বলছে, এ পয়েন্টগুলো দিয়েই ২৭ ধরনের মাদক আসছে নানা কায়দায়। ফলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি স্থানেই মাদকের বিস্তার ঘটেছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অ্যানুয়াল ড্রাগ রিপোর্ট বাংলাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেও উচ্চমূল্যের মাদক আসছে।জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং অরক্ষিত সীমান্তের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।বাংলাদেশ পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, উত্তরে আসাম, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম দ্বারা বেষ্টিত। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের (বার্মা) সঙ্গে সীমানা রয়েছে। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি ভারত থেকে গাঁজা ও ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও আইস স্রোতের মতো দেশে প্রবেশ করছে। দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের ১৭ শতাংশ ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় আসছে। আর বাকি ৮৩ শতাংশ মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন ১৮টি জেলার ১০৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এগুলো হচ্ছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গী ও পলাশপুর; যশোর জেলার বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা এবং আশপাশের এলাকা; চুয়াডাঙ্গা জেলার কারপাশডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর; মেহেরপুর জেলার দারিয়াপুর ও বুড়িপটা; রাজশাহী জেলার মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদা, ইউছুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ি, বাঘা ও রাজশাহী সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট; জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি (প্রধান প্রবেশপথ);দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আকাশকারপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম ও বনতারা; সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিংগারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর; কুমিল্লা জেলার জগন্নাথ দিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপশাহ, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবিরবাজার এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।দেশের উত্তরাঞ্চল সীমান্তের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, বাশজানি, বলারহাট, বলাবাড়ি, কুটি চন্দ্রকোনা, পাথরডুবি ও নাখারগঞ্জ; লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী; শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী; ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা।দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সীমান্তের কক্সবাজার জেলার জালিয়াপাড়া, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং, সাউথপাড়া, ধুমধুমিয়া, জদিপাড়া, সাউথ হ্নীলা, লেদাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, তুমরু উখিয়া, কাটাখালী, বালিখালী, ঘুমধুম ও কাটাপাহাড়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধারকৃত মাদক, আসামি ও মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ২৬ হাজার ৯০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৭৮৯ কেজি হেরোইন, ২২৭ কেজি কোকেন, আফিম ৩৭৮ কেজি, ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫৩ বোতল ফেনসিডিল, অ্যা¤পুল ইনজেকটিং ড্রাগ ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৬টি, ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৫২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৮টি মামলায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৫১ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশলধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ইয়াবা পাচারকারীরা অভিনব কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে আসছেন। পেটের ভেতর, পেঁয়াজ ও কুমড়ায়, মোটরসাইকেল ও গাড়ির জ্বালানির ট্যাংক, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে বিশেষ বাক্সে করে আসছে ইয়াবা।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মানজুরুল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন কৌশলে নগরে মাদক ঢুকছে। সম্প্রতি নগরীর কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে দুজন ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পেটের ভেতর ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন তাঁরা। তাঁদের পেট থেকে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবা বের করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশে সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিদিনই ইয়াবা পাচার হচ্ছে। আবার প্রতিদিনই ধরাও পড়ছে। কিন্তু পাচারের তুলনায় জব্দ হচ্ছে খুব কম।সচেতন মহলের প্রশ্ননগরীর পুলিশ যেখানে মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িত সেখানে মাদক সেবন, বিক্রয় ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন?। মাদকের সাখে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারনে চট্টগ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খোদ মাদক ব্যবসায় জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলে মাদক ব্যবসা। এ অবস্থায় মাদক নিয়ন্ত্রণ হাস্যকর।তবে সিএমপির ভাষ্য, মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে গত কয়েক বছরে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসান সদস্যের চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মাদকসেবি ও পাচারকারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।যাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেছে। কারাগারে বন্দি আটকের ৭০ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। তবে কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে তারা আবার মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানান চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) জনাব মো. রইছ উদ্দিন।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যএ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মাদকসহ যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে। মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে চেক পোষ্ট বসিয়ে প্রায় সময় অভিযান চালানো হচ্ছে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশের ভেতরে মাদক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর রেল স্টেশন, বাস স্টেশনসহ উড়াল সড়কের নিচে এবং সড়কের মোড়ে মোড়েও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম বিপিএম বলেন, সীমান্তের কোন কোন পথে মাদক আসছে সেটা আমরা চিহ্নিত করেছি। মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেক সময় লোভ-লালসায় পড়ে এজেন্সির লোকজন মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। যেসব বাহিনীর সদস্যরা এসব কাজে জড়াচ্ছে, জানতে পারলে তাদের শাস্তিও হচ্ছে। মাদক প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সবসময় সজাগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। চলতি বছরেই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতেও প্রেরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরকারি বিধি মোতাবেক কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও জোত পারিিমট দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামে এমন ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেখান থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব যোগ হয়। বৈধ এই জোত পারমিট ছাড়া অবৈধ যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জ পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, মাদক সম্পৃক্ততায় প্রমাণিত আনসার সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে আনসার সদস্যরা এখন অনেক সুগঠিত। মাদক সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ এখন অনেকাংশে কমে গেছে আনসার সদস্যদের।
২৮ দিন আগে
সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
১ মাস ৬ দিন আগে
রেলওয়ের কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ পারসোনাল অফিসার (সিপিও) লুৎফা বেগম। এই দপ্তরে টানা ২৩ বছর বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। এ সুবাধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বাড়ি আর গাড়িতে বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে এখন নানা আলোচনা চলছে তাকে নিয়ে।রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সিপিও (পূর্ব) দপ্তরে যোগ দেন লুৎফা বেগম। এরপর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো বদলি ছাড়াই তিনি একই দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই অবস্থানে রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার আধিপত্যর কাছে সবাই হার মানে। এমনকি রেলওয়ে মহাপরিচালক দপ্তরের বিশেষ সহায়তায় তিনি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদও ভাগিয়ে নেন। আর স্বপদে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়েতে স্বল্প বেতনের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লুৎফা বেগমের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি। চট্টগ্রামের হালিশহর থানা এলাকার কৃষ্ণচূড়া অ্যাপার্টমেন্টে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। নগরীর নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রয়েছে আরো কয়েকটি ফ্ল্যাট। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। গ্রামেও তিনি ‘অঢেল সম্পদের’ মালিক বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রেল সূত্রে জানা যায়, লুৎফা বেগম নিয়মিত নিজস্ব গাড়ি ও চালক নিয়ে অফিসে আসেন। রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা আছেন অনেকে রিক্সা নিয়ে এসে অফিস করেন। কিন্তু একজন কর্মচারী কিভাবে বিলাসী জীবন যাপন করে সে প্রশ্ন রেল অঙ্গনে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ক্ষমতা আর আয়ের উৎস কি? কিভাবে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন তার সবকিছু বেড়িয়ে আসবে যদি দুদক অনুসন্ধান করে।রেল কর্মকর্তাদের মতে, রেলওয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ এত বছর কোনো কর্মচারী বদলি ছাড়াই একই দপ্তর আঁকড়ে রেখেছেন। এবং একজন কর্মচারী হিসেবে তার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে যায় না। এছাড়া, দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে থাকার কারণে লুৎফা বেগম একটি শক্তিশালী নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন হয়রানির মতো অনিয়মগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এই দপ্তরে।রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের নীরবতার কারণে লুৎফা বেগমদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাদের চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। এটা চাকরিবিধির চরম পরিপন্থী। এগুলো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।জানা গেছে, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এ নেত্রীর সঙ্গে সিআরবি জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং রেলওয়ের অঘোষিত টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমন দাবী রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের। তাদের দাবী, লুৎফা গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।সিপিও (পূর্ব) কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, লুৎফা বেগমের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্বপরায়ণ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে দাপট দেখানো, চিৎকার-চেঁচামেচি, শাসানো-এসব তার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অফিসে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে তার বিরুদ্ধে।জানা গেছে, বর্তমানে পুরো অফিসে বদলি বাণিজ্য, পেনশন বাণিজ্য, সাসপেন্ড ফাইল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সম্পর্কিত ফাইল ও টিএলআর নিয়োগ, সবকিছুতেই তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তারা লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দু‘বার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী বছরের পর বছর অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএ’র ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফা বেগম বলেন, আমি জানি কে এসব পাঠিয়েছে, আমি দুইটা লোককে টার্গেট করছি। কারণ একজনের পদোন্নতি হবে, সে চাচ্ছে এখান থেকে কোনো ক্রমেই আমাকে সরাইতে। কোনো অশুভ শক্তিই আমাকে সরানো সম্ভব না ভাই, আল্লাহর অলৌকিক শক্তি ছাড়া। আমি কি কাজ করি না করি আমার প্রশাসন আমাকে খুব ভালো জানে। আমিতো আর হেহেহে করে লম্বর লম্বর করে হাঁটি না।
১ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবা আসরে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। আর ওই আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ বায়েজিদ খান আখন্দ। অভিযানে পুলিশ সদস্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) সহ তাদের তিন মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাদের ২০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান লোহাগাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হুদা। তিনি জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল নিউটন সিকদার অনেক আগে বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বাড়িতে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসত।খবর পেয়ে বুধবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে দু‘জনকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ বায়েজিদ বিন আখন্দ। ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার দু‘জনকে বৃহস্পতিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের তিন মাস করে কারাদন্ড ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করেন।এসআই জিয়াউল হুদা আরও জানান, অভিযানে পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল আংশ নেয়। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যান। নিউটনকে আটক করতে গেলে তিনি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। অন্যদিকে রাজেশ পাশের পুকুরে লাফ দেন। পরে সামান্য আহত অবস্থায় দু‘জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে পর্ন ভিডিও তৈরি, প্রচার ও বিক্রয় চক্রের এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী হলেন, সুমাইয়া সাঈদ ও তার প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুক।ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নগ্রাফি কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। জব্দকৃত মুঠোফোনগুলো ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং অন্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব ব্যবহার করা হতো।তিনি জানান, এমন তথ্যের ভিক্তিতে ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করি আমরা। এরপর গত ১১ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি আইফোন ও একটি ওয়ানপ্লাস ব্রান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এরপর ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরির সঙ্গে জড়িত তার এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে একই দিন বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ওই নারীর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
১ মাস ২০ দিন আগে
রেলওয়ের অনবোর্ড কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের টাকা মেরে খাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী রেলের মাফিয়া ও রক্তচোষা খ্যাত শাহ আলম। অনবোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুকুলে রেলওয়ে থেকে প্রতিমাসে বেতন প্রদান করা হলেও সেই টাকা জুটে না কোন কর্মচারীর। উল্টো শাহ আলমকে টাকা দিয়ে রেলের ডিউটি নিতে হয় তাদের।ফলশ্রুতিতে রেলের মাধ্যমে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ পাচার, গেস্ট পরিচয়ে বিনা টিকিটে তোলা শত শত যাত্রীর ভাড়া হাতিয়ে সরকারের রাজস্ব গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নিরুপায় অনবোর্ড কর্মচারীরা। এমন তথ্য মিলেছে রেলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে।সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠানামার ফাঁকে কথা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, রেলওয়েতে জনবল সংকটের অজুহাতে অনবোর্ডে ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনার।মজুরী কাঠামোর আওতায় এসব কর্মচারীর মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয় ক্লিনার পদের জন্য। আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা বেতন ধরা হয় ম্যানেজারে পদের জন্য। বাকি পদগুলোর অনুকুলে প্রদত্ত বেতনের মধ্যে ২-১ হাজার টাকা তারতম্য রয়েছে।সুনির্দিষ্ট জনবলের অনুকুলে প্রতিটি রেলের জন্য প্রতিমাসে ৬-৭ লাখ টাকা বেতন প্রদান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এভাবে ৫টি ট্রেনের অনবোর্ড থেকে পাওয়া ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনকে।ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধুলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর এসব ট্রেনে কর্মরত অনবোর্ড কর্মচারীদের একজনও সেই বেতনের এক টাকাও পাই না। উল্টো টাকা দিয়ে ট্রেনে ডিউটি নিতে হয় অনবোর্ড কর্মচারীদের। ফলে বেতন জোগাড় করতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা।এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার অন্যতম। গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত বছর ২৯ মার্চ এই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর রেলওয়ে স্টেশনেও ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা একই সুত্রে গাথা বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন।র্যাবের এই কর্মকর্তার মতে, স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান যেহেতু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী, সে হিসেবে এই ইয়াবা বা মাদক পাচারের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা ট্রেনের চালক থেকে নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।শুধু ইয়াবা বা মাদক পাচার নয়, চলন্ত ট্রেনে বান্দরবানের ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী। এরা হলেন মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয় তারা।এছাড়া শাহ আলমের গেস্ট পরিচয়ে শত শত যাত্রী বিনা টিকিটে প্রতিটি ট্রেনে তোলা হয়। এসব যাত্রীর টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেয় শাহ আলমের অনবোর্ড কর্মচারীরা। এভাবে প্রতিদিন অনবোর্ডের ৫টি ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের ২টি ট্রেন থেকে গেস্ট যাত্রীর ভাড়া বাবদ ৫-৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শাহ আলম। যা মাসে দেড় কোটি টাকারও বেশি। ক্যাটারিংয়ের ট্রেনগুলো হলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস।আর সরকারি রাজস্বের এসব টাকার একটি অংশ দিতে হয় শাহ আলমকে। বাকি অংশ ভাগাভাগি হয় অনবোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকোমাষ্টার, টিটি, স্টেশন ম্যানেজার, রেলওয়ের কমার্শিয়াল চীফ, আরএনবি ও জিআরপির মধ্যে। ভাগবাটোয়ারা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের শ্যালক (বউয়ের ভাই) সম্রাট ও ওরফে কালোবাজারী সম্রাট।কর্মচারী নিয়োগেও কোটি টাকার বানিজ্যচাকরি যখন সোনার হরিণ, সেখানে রেলওয়ের চাকরির কথা শুনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লাখো বেকার তরুণ-তরুণী। যাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেছে শাহ আলম। নিয়োগের সময় বেতনের লোভ এবং দৈনিক ৫-১০ হাজার থেকে লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেন, লাখো তরুণ-তরুণী থেকে লাখ টাকা হিসেবে কোটি কোাটি টাকা আদায় করলেও সবার ভাগ্যে জুটেনি চাকরি। যাদের অনেকেই এখনো কেঁদে ফিরছে। এর মদ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আনিছুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক এবং চট্টগ্রামে বসবাসকারী কুমিল্লা জেলার নুসরাত জাহান অন্যতম।আনিছুর রহমান জানান, ২০২২ সালে রেলে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে এস এ কর্পোরেশন। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি আমি। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। যোগাযোগ করলে বলে, রেলে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সাথে অনেকের চাকরি হয়েছে, আমার হলো না কেন? পরে বুঝতে পারলাম, আমার সাথে প্রতারণা করেছে এস এ কর্পোরেশন। টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ না রাখায় রেল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগও নিচ্ছেন না। আইনগত কোন ব্যবস্থাও আমি নিতে পারছি না।প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে এস এ কর্পোরেশন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন ডকুমেন্টস দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। টাকা ফেরত চাইলে বলছে, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে। অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের মতো শত শত তরুণ-তরুণী এস এ কর্পোরেশনের প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ বানিজ্য তো হয়েছে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও যারা নিয়োগ বঞ্চিত তাদের কান্না দেখলে আপনিও সইতে পারবেন না। আর যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের কাউকে নিয়োগপত্র দেয়নি এস এ কর্পোরেশন। তাদের কেউ বেতনও পায় না। তারা আকাম-কুকাম করে চলে।তিনি বলেন, আকাম-কুকাম থেকে উল্টো টাকা দিতে হয় শাহ আলমকে। অন্যথায় ট্রেনে উিউটি পায় না তারা। এ জন্য অনবোর্ড টেন্ডারে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত করে রেখেছে শ্রমিকের রক্তচোষা শাহ আলম। যা অনবোর্ড টেন্ডারের শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। শাহ আলমের এসব কাজে রেলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অনবোর্ডে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি এসব বলে বিপদে পড়তে চাই না। আপনি কমার্শিয়াল চিফের সাথে যোগাযোগ করুন।তবুও কালো নয়, রেল কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স এস এ কর্পোরেশনঅনবোর্ড, ক্যাটারিং ছাড়াও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন।এসব অপরাধে যেখানে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা, সেখানে ভাগবাটোয়ারার প্রভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চোখে সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। ফলে অনবোর্ড-ক্যাটারিংসহ রেলওয়ের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশন ছাড়া আর কারও ভাগ্যে জুটে না বলে মন্তব্য করেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, গত ৩০-৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের সব বিভাগের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশনের কব্জায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠলেও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় আদালতের স্ট্রে-অর্ডার নিয়ে টেন্ডার হাতছাড়া করেনি শাহ আলম।নাছির উদ্দিন মোহন নামে এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাম করে বলেন, শাহ আলম আর আমি রেলওয়েতে একই সময়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করি। কিন্তু আজ শাহ আলম কোথায় আর আমি কোথায়। শাহ আলম কোটি টাকার প্রাডো গাড়ি দৌড়ায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে খুলনায় শাহ আলমের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে ফ্লাইটে যাতায়াত করে। শাহ আলম এখন রেলের রাজা খ্যাত। কিন্তু সে যা করে তা মাফিয়া ডনকেও হার মানায়। রেলের বুকে এমন কোন অপরাধ নেই সে জড়িত নেই। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে সে জড়িত। দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এরপরও থেমে নেই শাহ আলম।যা বললেন শাহ আলমএ বিষয়ে জানতে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। পরে হোয়াট্স অ্যাপ মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা লিখে পাঠালে প্রতি উত্তরে তিনি লিখেন, অপরাধের সাথে যারা জড়িত তারা তো ব্যক্তি। তাদের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিভে কেন? নিয়োগ তো প্রতিষ্ঠানের দায়ভার কেন নয়-এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি না বলে এড়িয়ে যান।অনবোর্ড-ক্যাটারিং কর্মচারীরা বেতন পায় না, উল্টো টাকা দিয়ে ডিউটি নিতে হয়-এমন অভিযোগের জবাবে শাহ আলম লিখেন, আমি এখন ঢাকায় যাচ্ছি, ফ্লাইটে উঠতেছি। নেটওয়ার্ক নাই। ২-৩ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আসবো। আপনার সাথে বসব। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতএস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের নানা অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাইতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সঞ্জিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গত ১৬ আগস্ট রবিবার ও ১৭ আগস্ট সোমবার দু‘দিন অফিসে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. শওকত জামিল মোহসীও অফিসে ছিলেন না। দু‘দিনেই তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারীরা।পরে এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) মুঠোফোনে বলেন, ইয়াবা পাচার, তরুণী ধর্ষণসহ যেসব ঘটনা ঘটছে তা রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূতি প্রশ্নবিদ্ধ,-এটা নিসন্দেহে স্বীকার করতে হয়। তবে এসব ঘটনায় জড়িতরা কিন্তু রেলওয়ের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এসব অপরাধী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়ুক্ত লোক। এক্ষেত্রেও ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নিবে কেন-এমন প্রশ্ন আসতে পারে।এসব অপরাধের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক যে জড়িত নয়, এটা বলা যায় কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। এটা খতিয়ে দেখার বিষয়। এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম নিজেই দখলবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখাশুনা করেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম। আপনি উনার সাথে কথা বলুন। কিন্তু অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামের (অপারেশন) মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।(বিশেষ দ্রষ্টব্য : রেলের মাফিয়া খ্যাত ঠিকাদার শাহ আলমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩ প্রকাশ হলো। চতুর্থ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে)এ সংক্রান্ত আরও :ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১ । ট্রেনে ইয়াবা পাচারে এস এ কর্পোরেশন, অধরা মূলহোতা শাহ আলম!ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার এসোসিয়েশনের কোটি টাকার চাঁদাবাজি
১ মাস ২২ দিন আগে

দুবাইয়ে গ্রেফতারের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। দেশে দুর্নীতিসহ বেশ কিছু মামলা চলমান থাকায় গ্রেফতারের পর থেকেই তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। জামিনে মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় তার জামিন বাতিলে দুবাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ল’ ফার্ম নিয়োগে কাজ করছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।বেনজীর আহমেদ জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এখন শুনলাম স্টেজে বসে। সাথে সাথেই আমি হোম সেক্রেটারির সাথে কথা বলেছি। হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে আমাদের যে ইউএই অ্যাম্বাসেডার তার সাথে কথা বলেছেন। আমরা কয়েক দিন আগেই ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি, এই বিষয়টার জন্য শুধুমাত্র। তাকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছে যেন বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য সে পারসু করবে।বেনজীরের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি খবর পেয়েছি তাকে অন কন্ডিশনে এখানে তার ইউএই লিভ না করার শর্তে বেইল দিয়েছে। কী কী শর্ত সেটা আমি সার্টিফাইড কপিটা জোগাড় করতে বলেছি এবং আমাদের যে ল ফার্ম রয়েছে তাদেরকে আমরা ইন্সট্রাকশন দিয়েছি যেন এই বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য তারা পারসু করে।বাংলাদেশ সরকার এখন কোন আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী তার জামিন বাতিল করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা আইনানুগভাবে গিয়েছে আমরা ল ফার্ম নিয়োগ করেছি। আমাদের চেষ্টা আমরা করছি এবং আমরা আশা করছি এগুলা আমরা বেইল ক্যানসেল করতে পারবো এবং দ্রুততম সময়ে তাকে ফেরত নিতে পারবো।এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই করা হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতিমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপৃল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
২ মাস ৭ দিন আগে
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান এক্সাবাইট লিমিটেড এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠান ডিডিএন (ডিজিটাল ডট নেট)-এর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের দাবি, দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ হামলা চালায়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এটি একটি সাজানো ঘটনা।সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এই হামলা হয়। ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল সোমবার দুপুরে হঠাৎ অফিসে ঢুকে ক¤িপউটার, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এ সময় কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য অফিসে রাখা ৩৫ লাখ টাকা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়।ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, দুই দিন আগে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন নামে একজন ফোন করে তাদের কাছে দুই কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার দুপুরে ১৫-২০ জন অস্ত্রধারী অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রতিষ্ঠানের হেড অব সেলস মো. রবিউল হোসাইন রাকিব জানান, হামলার সময় অস্ত্রধারীরা কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে গেলেও আমাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ওপর শারীরিক হামলা চালায়নি। সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।তবে অভিযুক্ত ডেভিড ইমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এক্সাবাইট ও ডিডিএনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক স¤পর্ক রয়েছে। প্রাপ্য অর্থ ফেরত চাইতেই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি বা আমার কোনো লোকজন ওই হামলা, ভাঙচুর কিংবা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নই। আমার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনার দায় আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।এদিকে মুঠোফোনে চাঁদা দাবির কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেভিড ইমন বলেন, আমার সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কল রেকর্ডটি কেটে-ছেঁটে প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক আলোচনার অংশ বাদ দিয়ে সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।এদিকে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।পুলিশ জানায়, এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে বিপ্লব দে পার্থ নামের এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে।এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ২ জানুয়ারি ডিডিএন কার্যালয়ের পাশেই স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদার দাবিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে।এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং ২৩ মে পতেঙ্গায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি ইমন। বড় সাজ্জাদের দলের নেতৃত্ব দেওয়া সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান এখন চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মোহাম্মদ রায়হানের বিরুদ্ধেও অন্তত আটটি মামলা রয়েছে এবং এই বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
২ মাস ২৬ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার হিসাব কর্মকর্তা (সংগ্রহ) কাজী সাঈদা বেগম নিপার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম, ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাৎ এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।গত ১৩ জুন লিখিত এই অভিযোগ চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পরিচালক বরাবরে দায়ের করা হয় ২২ জুন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখায় বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ কমিশন ছাড়া কোনো বিলের ফাইল ছাড়েন না কাজী সাঈদা বেগম নিপা। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয়। এর বিপরীতে কমিশনের নামে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা অবৈধ কমিশন আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালন করার সুযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের হালিশহরে তার স্বামীর নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া নগরীর একে খান, সিটি গেট এবং মিরসরাই উপজেলার শ্বশুপুরবাড়ি এলাকায় জমি ও বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মস্থান বরিশালেও বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের তথ্য অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ নিজের নামে না রেখে স্বামী ও স্বজনদের নামে ক্রয় করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ রেলওয়ে দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা বলে কমিশন আদায় করা হলেও অধিকাংশ অর্থ নিজেই আত্নসাৎ করেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে স্বজনদের নামে একাধিক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ঠিকাদারদের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকির অভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে রেলওয়ে জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন নামে কথিত একটি সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া হয়।এ বিষয়ে অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে দ্রুত দুদকের অনুসন্ধান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার স¤পদের উৎস যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় ও ঠিকাদারদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।অভিযোগকারী ঠিকাদাররা অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ), রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার এবং প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের বরাবরেও প্রেরণ করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী সাঈদা বেগম নিপার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রেরণ গত ১৪ জুন দৈনিক ঈশান এর অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে `কাজী সাঈদার দূর্নীতিতে কাঁপছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব শাখা' শীর্ষক প্রতিবেদন ও সাপ্তাহিক পূর্বধারা পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন ছাড়াই কথিত আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রদান করা হয়। যেখানে প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য ছাড়াই একতরফাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অথচ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সরাসরি সাক্ষাতে নেওয়া বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। যার অডিও রেকর্ড দৈনিক ঈশান কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। একই অডিও রেকর্ড অভিযুক্ত সাঈদা বেগম নীপার কাছেও সংরক্ষিত থাকার কথা উকিল নোটিশে বলা হয়েছে। যা পুরোপুরি স্ববিরোধী এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। উক্ত প্রতিবেদন সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অভিযোগের স্বপক্ষে একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, দুদকে অভিযোগের বিষয়ে এই মুহুর্তে আমি ঠিক বলতে পারছি না। অভিযোগের কপি পেলে সংশ্লিষ্ট সেকশনে পাঠিয়ে দিব। আর প্রতিবাদ বা উকিল নোটিশের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ মাস ৩ দিন আগে
জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিসহ মোট তিন নারীর বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) সকালে শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি যেহেতু সাইবার সংক্রান্ত অভিযোগ, সেহেতু তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগটি ডিবি সাইবার বিভাগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত করবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তিনি জানান, শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামে একটি সংগঠনের তিন ব্যক্তি এ অভিযোগ দাখিল করেন। এক অভিনেত্রী ও এক চিত্রনায়িকা ছাড়াও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধেও। লিখিত আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।অভিযোগপত্রে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়, যেখানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড করেছেন বলে দাবি করা হয়।এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শান্তা ফারজানা নামে একজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
৩ মাস ৫ দিন আগে
নয় বছর আগের কথা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লাশ মেলে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের। পাথরের ব্লকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা মেয়েটির মৃত্যু নিয়ে আলোড়ন উঠেছিল দেশজুড়ে। তার বাবা ছয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলাও করেন।কিন্তু পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আটজন কর্মকর্তার পর্যায়ক্রমে গত নয় বছরের তদন্তেও তাসফিয়াকে হত্যার প্রমাণ মেলেনি। বরং পানিতে ডুবে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রত্যেকের তদন্তে উঠে আসে। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী। তিনিও পূর্বসুরীদের মতোই গত ১১ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ৬ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন।আর ২৫ জুন বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বক্কর সিদ্দিক চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে নয় বছর পর মামলাটি খারিজ হয়ে গেল নিম্ন আদালতে।চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পুলিশ সেরেস্তার রিজার্ভ অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সর্বশেষ পঞ্চম ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধেও বাদী নারাজি আবেদন দেবেন বলে আদালতকে অবহিত করেছিলেন। এজন্য তিনি সময়ের আবেদনও করেন। আদালত ২৫ জুন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শুনানির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাদী আর নারাজি আবেদন দাখিল করেননি। তাই আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সাল থেকে মামলাটি পর্যায়ক্রমে তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন পতেঙ্গা থানার তৎকালীন এসআই আনোয়ার হোসেন, নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই স্বপন কুমার সরকার ও পিবিআই পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। কিন্তু তাসফিয়া আমিনের বাবা প্রত্যেকটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালতও প্রত্যেকটি আবেদন গ্রহণ করে পর্যায়ক্রমে পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। এরপর চতুর্থ দফায় সিআইডির কাছে যায় তদন্তভার। সিআইডি পরিদর্শক আদিল মাহমুদ, মোহাম্মদ শরিফ, মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন ও সাখাওয়াত হোসেন পর্যায়ক্রমে তদন্ত করেন। সিআইডির পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়। সেটাতেও নারাজি দিলে পঞ্চম দফায় সহকারী পুলিশ কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী তদন্ত করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণ হয়নি। পানিতে ডুবেই তাসফিয়ার মৃত্যু হয়েছে। মেডিকেল প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং সংগ্রহ করা আরও তথ্যপ্রমাণে এটি আত্মহত্যা ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এজন্য মামলার অভিযোগ তথ্যগত ভুল হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।’তাসফিয়া আমিন চট্টগ্রাম নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তার বাবা মোহাম্মদ আমিন। সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী। ২০১৭ সালের ১ মে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিলেন তাসফিয়া। পরদিন সকালে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় পাথরের উপর উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।ওইদিনই মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন, তার মেয়ের বন্ধু আদনান মির্জা, সোহেল বিন নাছির, মেরাজ বিন শওকত, ওয়াজ বিন আসলাম আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও মোহাম্মদ ফিরোজ। এদের মধ্যে আসিফ ও ফিরোজকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে সর্বশেষ সব আসামি জামিনে ছিলেন।
৩ মাস ১৩ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রীকে পদের লোভ দেখিয়ে চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলার মদের বারে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করার ঘটনা এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল।অভিযোগকারী পদপ্রত্যাশী নারীকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আফরিন বাদি হয়ে আদালতে মানহানির মামলা করেছেন। গত ২১ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদিপক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেলন হক বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০৬, ১২০ (বি) ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আদালত পিবিআইকে একমাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।মামলার আরজিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৯ জুন সংবাদ সম্মেলন করে পদপ্রত্যাশী এক নারীকর্মী অভিযোগ করেছিলেন, নারীশক্তির পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে পেনিনসুলা হোটেলের মদের বারে নিয়ে যান। সেখানে এনসিপি নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন ছিলেন। সাংগঠনিক বৈঠকের নামে সুজা ‘মদ্যপ অবস্থায়’ তাকে অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেন। আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব। দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠকও তিনি।এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে সাদিয়া আফরিনের করা মামলায় নারীকর্মীর পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উল্লেখ করে এনসিপি ছেড়ে যাওয়া হুজ্জাতুল ইসলামকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।মামলার আরজিতেেআরও উল্লেখ করা হয়েছে, সুজা ও সাদিয়ার ছবিসহ ব্যানার ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করে নারীকর্মী যৌন হয়রানি ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তথ্যউপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় অভিযোগকারীর বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো সঙ্গতি পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নারীকর্মী এমন অভিযোগ তুলেছেন সাদিয়া আফরিন। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে বলে প্রত্যাশা তার।
৩ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক মিলছে মানুষের মরদেহ। এবার ধানক্ষেতে মিলল স্বপন বড়ুয়া (৫২) নামে এক নৈশপ্রহরীর রক্তাক্ত লাশ। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টায় কদলপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়ুয়াপাড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত স্বপন বড়ুয়া উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নেরই বাসিন্দা। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ যে জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে সেখান থেকে তার বাড়ি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ স¤পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ খোরশেদ বলেন, শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে শরীরের রক্তাক্ত জখম অন্য কারও আঘাত থেকে কিনা তা ¯পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ধানক্ষেতে ছটফট করতে গিয়েও তিনি রক্তাক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে একটি টিউবওয়েল রয়েছে। সেখানে লেগেও হয়তো আঘাত পেয়েছেন তিনি। ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বপন বড়ুয়ার মুঠোফোনে একটি কল আসে। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, বাড়ির পাশের একটি দোকানে একজন তাকে ডাকছেন। এ কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানক্ষেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বপন বড়ুয়ার কপাল, নাক, হাত ও পিঠে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাসন রক্ষিত বলেন, স্বপন বড়ুয়া আমাদের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তাকে সন্ধ্যায় ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। এরপর তার লাশ পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।এর আগে গত সোমবার দিনগত রাত ৩টায় রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশের একটি বাড়ির উঠান থেকে ফটিকছড়ি উপজেলার যুবক রাশেদ (৪০) এর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এর আগে গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে।
৩ মাস ২২ দিন আগে
বিশ্ব জুড়ে খবর পেতে মানুষ এখন মূলধারার মিডিয়ার চেয়ে সোশাল মিডিয়া ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের দিকে বেশি ঝুকছে। রয়টার্স ইন্সটিটিউট ফর দি স্টাডি অফ জার্নালিজমের এক রিপোর্টে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত রয়টার্স ইন্সটিটিউট ফর দি স্টাডি অফ জার্নালিজম প্রতি বছর মিডিয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে। চলতি বছরের শুরুতে ৪৮টি দেশের প্রায় এক লাখ মানুষের ওপর অনলাইনে একটি জরিপ চালায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ইউগভ'। সেই জরিপের ভিত্তিতেই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ৫৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, জরিপের আগের সপ্তাহে তারা সোশাল মিডিয়া বা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে খবর পেয়েছে। আর এআই চ্যাটবটগুলোকে হিসাবে ধরলে এই হার দাড়ায় ৫৬ শতাংশে। আর ৫২ শতাংশ মানুষ টেলিভিশনের খবর, ৫১ শতাংশ মানুষ সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এবং ২১ শতাংশ মানুষ রেডিওর কথা বলেছেন। গবেষণায় নেতৃত্বে থাকা জিম ইগান রিপোর্টে লিখেছেন, ২০২৬ সাল একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক। মিডিয়ার পুরনো ব্যবসায়িক মডেল এখন হুমকির মুখে। বৈশ্বিকভাবে ৫৪ শতাংশ মানুষ সোশাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট ভিডিও থেকে খবর নিচ্ছে। কেবল ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের কাছে এখনো খবর পাওয়ার প্রধান মাধ্যম টেলিভিশন।আয় কমছে মিডিয়ারখবরের জন্য বৈশ্বিকভাবে এবারই প্রথম প্রচলিত মিডিয়াগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে সোশাল মিডিয়া। তবে বেশ কিছু দেশ এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত আগেই দেখা গেছে। অবশ্য ইওরোপের দেশগুলোতে মূলধারার মিডিয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ এখনো এগিয়ে রয়েছে।বৈশ্বিক এই জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে তিন জন জানিয়েছে, তাদের খবর পাওয়ার প্রধান উৎস সোশাল মিডিয়া বা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় অর্ধেক।একেকটি সোশাল মিডিয়ায় খবরের ধরনও একেক রকম। বেশিরভাগ মানুষ নির্দিষ্ট করে খবর খুজতেই এক্স (সাবেক টুইটার) বা ইউটিউবে ঢোকে। কিন্তু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে সাধারণত অন্য কিছু করার ফাকে মানুষের সামনে খবর চলে আসে।গণমাধ্যমের অ্যাপ ও মূলধারার ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থাও বেশ করুণ। জরিপে অংশ নেয়া কোনো বয়সী মানুষই সংবাদপত্রের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটকে খবরের প্রাথমিক উৎস হিসেবে উল্লেখ করেনি।বিবিসির সাবেক সিনিয়র নির্বাহী জিম ইগানের মতে, এর ফলে মিডিয়ার পাঠক বা দর্শকের কাছে পৌছানো, তাদের ধরে রাখা এবং আয় করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় করা কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা জরিপের আরেকটি তথ্যে স্পষ্ট। মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, অনলাইনে খবরের জন্য তারা টাকা খরচ করেন। অন্যদিকে মূলধারার মিডিয়ার জায়গা দখল করে বিজ্ঞাপনের বাজারের বিশাল একটি অংশ নিজেদের পকেটে পুরছে গুগল ও মেটার মতো টেক জায়ান্টগুলো।আস্থার সংকটখবরের হালচাল নিয়ে ১৮০ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে গত কয়েক বছর ধরে চলা কয়েকটি প্রবণতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও কনটেন্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যক্তিপর্যায়ের কনটেন্ট কৃয়েটরদের (নির্মাতা) প্রভাব বৃদ্ধি এবং মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়া এর মধ্যে অন্যতম।'আস্থা'র কথা বিবেচনাতেও মূলধারার মিডিয়ার জন্য কোনো সুখবর নেই। মাত্র ৩৭ শতাংশ মানুষ বলেছে, তারা বেশিরভাগ সময় খবরের ওপর আস্থা রাখে। খবরের জন্য মানুষ এখন এআই চ্যাটবটের ওপরও বেশি নির্ভর করছে। রয়টার্স ইন্সটিটিউটের গত বছরের রিপোর্টের মূল ফোকাসও ছিল এটি। জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার খবরের জন্য চ্যাটবট ব্যবহার করেন। গত বছর এই হার ছিল সাত শতাংশ।জিম ইগান রিপোর্টে লিখেছেন, জেনারেটিভএআইয়ের দ্রুত প্রসারের সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নেয়া যায়, সেটাই এখনকার মিডিয়ার কর্তা ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
৩ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রামের সন্ত্রাস প্রবণ এলাকা রাউজান থেকে এবার ফটিকছড়ির উপজেলার এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই যুবকে নাম রাশেদ (৪০) বলে জানা গেছ্।ে মঙ্গলবার সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশের একটি বাড়ির উঠান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।পুলিশ বলছে, ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রাশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা লাল মিয়া সাহেব বাড়ীর প্রয়াত বদরুদ্দোজার ছেলে। রাশেদ দুই সন্তানের জনক। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে এ তথ্য জানান রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফটিকছড়ির একজন লোক সোমবার উরকিরচরস্থ খালাতো বোনের শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই বাড়িতে তার খালাতো বোন ও তার জা ছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তারা দরজা খুলে দেয়নি। রাত তিনটার দিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তার মহদেহ উদ্ধার করে। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, রক্তও বের হয়েছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স¤পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।নিহতের চাচা আবদুল মাবুদের ভাষ্য, রাশেদ রাউজানে তার খালাতো বোনের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গত ৫ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করত। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার খালাতো বোন দরজা খুলে দেয়নি, সেখানে যাওয়ার খবর তার পরিবারকে জানিয়েছিল। পরে মঙ্গলবার সকালে তার লাশ পাওয়া গেছে বলে খবর দেওয়া হয়। রাতে সে বাইরে ছিল। তাই আমরা ধারণা করছি ডাকাত সন্দেহে স্থানীয়রা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।মোরশেদ আলম নামে ফটিকছড়ি উপজেলার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা কথা বলতেন। যে কখনো রং মিস্ত্রির হেলপার আবার কখনো রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করতো। তাকে রাউজানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।এর আগে গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদি হয়ে রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
৩ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের একজনের হাতে দেখা গেছে দুটি পিস্তল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।শনিবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে গুলি করে মাসুদকে হত্যা করা হয়। মাসুদ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই। ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হামলাকারীদের তিনজনের হাতে মোট চারটি পিস্তল ছিল। একজনের কাছে ছিল জোড়া পিস্তল। অপর দুজনের একজনের হাতে ছোট বন্দুক এবং অন্যজনের হাতে ছিল একনলা বন্দুক। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচজনই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশ নেয় এ হত্যাকাণ্ডে । এরপর তারা পাহাড়তলী বাজারে দাড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে দ্রুত পালিয়ে যায়। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়াত হোসেন বলেন, ‘ভিডিওচিত্র যেটা ছড়িয়ে পড়েছে সেটা এই হত্যাকাণ্ডেরই। আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। ওই ভিডিওচিত্রে আপাতত পাঁচজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তার মধ্যে একজনের হাতে দুটি পিস্তল ছিল। একটি একনলা বন্দুকও দেখা গেছে। ঘটনার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাসুদুল হককে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে আসে হামলাকারীরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ওঁৎ পেতে থাকে।ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল দুই অস্ত্রধারী। তাদের একজনের পরনে ছিল কালো এবং অন্যজনের পরনে ধূসর রঙের টি-শার্ট। জলপাই রঙের টি-শার্ট পরা একজনকে একটি দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। কালো টি-শার্ট পরা ব্যক্তি ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে যেতেই শোনা যায় প্রথম গুলির শব্দ। এরপর গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ছোট বন্দুক হাতে বের হয়ে পরপর তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলি করতে করতে অটোরিকশার পেছনের দিকে এগিয়ে যান তিনি। পরে জলপাই রঙের টি-শার্ট ও মাথায় টুপি পরা আরেকজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। তার হাতে ছিল দুটি পিস্তল। একই সময়ে অটোরিকশার সামনের আসন থেকে এক ব্যক্তি একনলা বন্দুক হাতে বের হয়ে আসে।ভিডিওচিত্রে আরও দেখা যায়, কালো, ধূসর ও গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরিহিত তিন ব্যক্তি কয়েক সেকেন্ড পর আবার অটোরিকশার দিক থেকে পেছনের দিকে ফিরে আসে। তখন আরও চারটি গুলির শব্দ শোনা যায়, যদিও সেগুলো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। দুপুর ১টা ২২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড থেকে ১টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত প্রায় এক মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের মধ্যে থেমে থেমে এক ডজনেরও বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে গুলি করার সময় মাসুদুল হককে ভিডিওচিত্রে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ধূসর রঙের টি-শার্ট পরা দুজন তাকে গুলি করে। কারণ ভিডিওচিত্রে তাদের পিস্তল হাতে অটোরিকশার দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
৩ মাস ২৬ দিন আগে
কোম্পানিগুলোর হাতে ৫১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, অলস ও অনিষ্পন্ন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গ্রাহকদের ৪ হাজার ৪০৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বৈধ বীমা দাবি। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, প্রগতি লাইফ, পপুলার লাইফ, মেঘনা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, এনআরবি লাইফ, রুপালী লাইফ, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ, হোমল্যন্ড লাইফ, ডেল্টা লাইফ, সান লাইফসহ প্রায় সবকটি বীমা কোম্পানি। এমনকি জীবন বীমা করপোরেশন, আমেরিকান লাইফ ও মেটলাইফ বাংলাদেশের মতো বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকের বীমা দাবি ঝুলিয়ে রেখে নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে। করছে চরম অনিয়ম। এতে তৈরি হচ্ছে অর্থ সংকট। যার দায় বইতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
৪ মাস ১ দিন আগে
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল।মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৪ মাস ২ দিন আগে
দেশজুড়ে প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছেন সংঘবদ্ধ সাইবার ডাকাতচক্র। সরবরাহকৃত ভুয়া লিংকে ক্লিক করলেই আপডেটের ফাঁদে কয়েক মিনিটের মধ্যে মুঠোফোনে থাকা ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপস থেকে উধাও হচ্ছে টাকা। আবার অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামভিত্তিক ভুয়া চাকরি, অনলাইন টাস্ক, মুভি রেটিং ও ইনভেস্টমেন্টের প্রলোভনে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রথমে ছোট অঙ্কের টাকা দিয়ে বিশ্বাস অর্জন, পরে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করে পুরো সঞ্চয় শূন্য করে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র। এসব টাকা মুহূর্তের মধ্যে শত শত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে নানান কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এগুলো ক্যাশ-আউট ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা দেশি-বিদেশি চক্রের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হচ্ছে হাজার হাজার ভুয়া বা ভাড়া করা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, যেগুলোর প্রায় সবগুলোই অন্যের এনআইডি ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমের সমন্বয়ে খোলা। এর পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। যেগুলো নানা প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের মাধ্যমে খোলা হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে প্রতারণা ও অপরাধ জগতের লেনদেন ও মূলহোতাদের ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।সাইবার প্রতারণার এসব ঘটনা তদন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বেশিরভাগ থানায় মামলা হয় না। এ কারণে উল্লেখযোগ্য ভুক্তভোগীরা কোনো প্রতিকার পান না। এসব ঘটনায় কেউ কেউ আদালতে মামলা করে থাকেন। বিচারক এগুলো পুলিশের বিশেষায়িত কোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে থাকেন। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনায় শত শত মামলা হচ্ছে চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব ঘটনা তদন্ত ও বিশ্লেষণে উঠে আসছে প্রতারণার সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে, কোন চ্যানেলে হাতবদল হচ্ছে। শুধু প্রতারণার টাকা নয়, একই সঙ্গে ওঠে এসেছে ভয়ঙ্কর নানা অপরাধের লেনদেন কীভাবে ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার দুর্বলতাকে ব্যবহার করে দ্রুত উত্তোলন ও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই হাজার হাজার কোটি টাকা কীভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।কেস স্টাডি-১চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা এলাকার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে হঠাৎ দেখা দেয় অস্বাভাবিক সমস্যা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফোন চালু করে তিনি দেখেন, বিকাশ, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস মোবাইল থেকে উধাও। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই ইউসিবি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং বিকাশ ও নগদ নম্বরে স্থানান্তর হয়ে গেছে। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের শিকার হয়েছেন তিনি। তার জি-মেইল ও গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সংরক্ষিত ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও পিন কোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ডেটা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতারক চক্র লোহাগাড়া ও কেরানীহাট এলাকার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) দুটি শাখায় থাকা তার হিসাব থেকে ধাপে ধাপে ৭ লাখ ৫২ হাজার ৪৫০ টাকা তুলে নেয়। মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একাধিক অপরিচিত হিসাবে এই টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।গত ৭ এপৃল বিকেলে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. ইকবালসহ দু‘জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উদঘাটিত হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ নিবন্ধিত সিম, আটটি ব্যাংকের চেক বই, তিনটি ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহেদুল ইসলাম। আইটি বিষয়ে দক্ষ এই কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্তে নেমে পড়েছেন জটিলতায়। প্রতারণাটা টাকাগুলো সরাতে ব্যবহৃত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট। সবগুলোই একজনের নামে সিম নিবন্ধিত এবং আরেকজনের নামে বিকাশ অ্যাকাউন্ট। তবে সব স্তর পেরিয়ে মূল হোতাদের বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারহ চক্র মূলত এমএফএস ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত। প্রথমে তারা ভুক্তভোগীদের জিমেইল ও অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নিয়ন্ত্রণে নিত। এরপর ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আত্নসাতের কাজ শুরু করত। আত্নসাৎ করা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হতো।তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হতো। চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়। চক্রের প্রধান ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় একই ধরনের অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তার সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধেও প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।কেস স্টাডি-২চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মাঈন উদ্দিন নামে একজন ভুক্তভোগীর দায়ের হওয়া একটি সাইবার প্রতারণা মামলার তদন্ত করেছেন নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রসফনসড়ারব-পষরপশ.পড়স নামে ভুয়া একটি ওয়েবসাইট খুলে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি ও মুভি রেটিংয়ের কাজের প্রলোভন দেখানো হয়। প্রথমে কয়েক হাজার টাকা জমা নিয়ে কমিশনসহ ফেরত দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগীরা সহজেই আস্থা পেয়ে যান। পরে ভিআইপি অ্যাকাউন্ট, টাস্ক আনলক ও সিস্টেম অ্যাক্টিভেশনের কথা বলে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এমন করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই ৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৩২ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। প্রতারণার এই টাকা সরাতে ব্যবহার করা হয় একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট। যেগুলোর বেশিরভাগই যে নামে সিম নিবন্ধিত তার নয়।মামলার তদন্তে দেখা যায়, একটি বিকাশ নম্বর ০১৯...০৩ রাজিয়া বেগম (৩১) নামে নিবন্ধিত। অ্যাকাউন্টটির কেওয়াইসিতে ব্যবহার করা হয়েছে এনআইডি নম্বর ৮২...৫৩। এই নম্বরে দুই দফায় ১২ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে প্রথমে ওই নারীর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিকাশ নম্বর ০১...৮৯ রহিমা খাতুন (৬৮) নামে নিবন্ধিত। এই নম্বরে ৬ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তারা তার ঠিকানায় গিয়ে এমন কাউকে খুঁজে পাননি। পুলিশ বলছে, নম্বরটি ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ গ্রহণ করা হলেও নিবন্ধিত ব্যক্তির অস্তিত্ব না পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কেউ ওই সিম ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে। বিকাশ নম্বর ০১...৮৭ মনোয়া বেগম (৪৩) নামে নিবন্ধিত। এই নম্বরে দুই ধাপে ৩৬ হাজার ৪ টাকা পাঠানো হয়। তদন্তে এই অ্যাকাউন্টেও প্রকৃত ব্যবহারকারী ও নিবন্ধিত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়টি উঠে আসে।পুলিশের পর্যবেক্ষণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাইবার প্রতারকরা এখন আর নিজেদের নামে সিম বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে না। গ্রামের সাধারণ মানুষ, বৃদ্ধ নারী কিংবা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের এনআইডি ব্যবহার করে সিম ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো ভাড়া বা কমিশনের ভিত্তিতে ব্যবহার করছে অপরাধচক্র। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত এনআইডি মালিক জানেনই না যে তার পরিচয়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার সিনহা বলেন, “মোবাইল ব্যাংকিং কো¤পানিগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিলে, তাহলে অপরাধীদের সহজেই আইনের আওতায় আনা যায়। সিম নিবন্ধন ও মোবাইল ব্যাংকিং কেওয়াইসি যাচাই প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা থাকায় প্রতারকরা সহজেই এই সুযোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে এজেন্ট পর্যায়ে যথাযথ যাচাই না হওয়া এবং সিম বিক্রির সময় প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত না করার কারণে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ছে। আর ব্যাংকগুলো তাদের অ্যাপস যাতে যার নামে অ্যাকাউন্ট, তিনিই শুধু ব্যবহার করতে পারেন। এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করাটা উচিৎ।দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মামলা তদন্তের সঙ্গে জড়িত কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা একজন ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, ভুক্তভোগী মোবাইলের টেলিগ্রাম গ্রুপে আসা ভুয়া লিংকে প্রবেশ করেন। এসব লিংকে প্রবেশের পর তাকে প্রথমে সেখানে ১ হাজার টাকা জমা হয়েছে দেখানো হয়। ওই টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যবহারকারীকে আরও ১ হাজার বা ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে ওই ১ হাজার বা ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে আবার ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ দেখানো হয়, যা মূলত এক ধরনের কৃত্রিম লভ্যাংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ভুক্তভোগীরা লোভে পড়ে একাধিকবার ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেন। এক পর্যায়ে এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট ওয়েব ব্রাউজার বা অনলাইন লিংকে আটকে দেওয়া হয়। পরে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে প্রতারকেরা জানায়, আরও ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে পূর্বের টাকা উত্তোলন করা যাবে। এই প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীরা আবারও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন, কিন্তু পরবর্তীতেও তাদের টাকা আটকে দেওয়া হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ, ১০ লাখ, ৩০ লাখ এবং সর্বোচ্চ ৫৭ লাখ ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা পাওয়া গেছে, এবং পরবর্তীতে এসব অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।তিনি আরও জানান, কোন প্রক্রিয়ায় এসব টাকা আত্নসাৎ এবং বিদেশে পাচার হচ্ছে, তা নিয়ে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সাইবার ইউনিটের এক কর্মকর্তার দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, বিদেশি কিছু নাগরিক, বিশেষ করে চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ঢাকার উত্তরা, দিয়াবাড়ীসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে এবং সেখানে অফিসের মতো পরিবেশ তৈরি করে। এরপর তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় লোকজনকে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং তাদের মাসিক ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন দেয়। এসব প্রতিনিধির মাধ্যমে গরিব দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, রিকশাচালক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই তাদের ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয় এবং আশ্বাস দেওয়া হয় যে আগামী মাসে সরকারি প্রণোদনার টাকা মোবাইলে চলে আসবে। এরপর এসব একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। একই সঙ্গে বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করে এসব অর্থ এসআরদের মাধ্যমে লেনদেন করানো হয়, যাতে অর্থের উৎস গোপন রাখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সঙ্গেও চুক্তি করা হয়, যেখানে তাদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশে সমপরিমাণ টাকা দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার বা রুপি গ্রহণ করা হয়। এভাবে দেশীয় অর্থকে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করে সহজেই বিদেশে পাচার করা হয় বলে তিনি জানান।প্রযুক্তিগত দুর্বলতা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী একটি এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিমের মালিক এবং অ্যাকাউন্টধারীর এনআইডি একই ব্যক্তির হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডিজিটাল কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের সঙ্গে যাচাইও করা হয়। কিন্তু বাস্তবে প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, শিথিল যাচাই ব্যবস্থা এবং কিছু অসাধু এজেন্টের সহযোগিতায় একজনের সিমে অন্যজনের এনআইডি ব্যবহার করে বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থেকে যাচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু এজেন্ট অতিরিক্ত কমিশনের লোভে নিজেরাই ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলায় সহযোগিতা করেন। তারা অনেক সময় গ্রাহকের উপস্থিতি ছাড়াই ছবি তুলে, পুরোনো ছবি ব্যবহার করে অথবা দুর্বল মুখমন্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করে দেন। তদন্তকারীরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের কিছু ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার বা ডিএসও এবং ডিস্ট্রিবিউটরও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তারা বিপুল পরিমাণ ই-মানি দ্রুত বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে নগদ টাকায় রূপান্তরে সহায়তা করেন।সাইবার অপরাধীরা ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সেটি সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ভাগ করে দেয়। মানি লন্ডারিংয়ের ভাষায় এই পদ্ধতিকে লেয়ারিং বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে তদন্তকারীরা বলছেন, কোনো ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্ট থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি ১০ থেকে ১৫টি আলাদা বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে ভাগ হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে আবার অন্য অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ফলে তদন্তে একটি অ্যাকাউন্ট র্ট্যাক করতে করতে মূল অর্থের গতিপথ জটিল হয়ে পড়ে।ক্যাশ আইট করে দেশের বিভিন্ন এলাকায়টাকা হস্তান্তরের পর শুরু হয় ক্যাশ-আউট বা টাকা উত্তোলনের পালা। অপরাধীরা সাধারণত নিজের এলাকার বাইরে গিয়ে টাকা তোলে এবং এমন এজেন্ট পয়েন্ট বেছে নেয়, যেখানে সিসি ক্যামেরা নেই বা জনসমাগম বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাতের বেলায় অ্যাপের বাইরে গিয়ে নগদ লেনদেন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু এজেন্ট অতিরিক্ত কমিশনের বিনিময়ে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করেন। আবার অনেক এজেন্ট না বুঝেই প্রতারকদের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন। কারণ প্রতারকেরা সাধারণ গ্রাহক সেজে টাকা উত্তোলন করে এবং সন্দেহ এড়াতে ছোট ছোট ভাগে ক্যাশ-আউট করে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে পুলিশ, সিআইডি বা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা প্রথমে লেনদেনের ডিজিটাল স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ করে। এতে খুব সহজেই শনাক্ত করা যায় কোন এজেন্ট পয়েন্ট থেকে প্রতারণার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর মূল অপরাধী ধরা না পড়লেও সং্িযশ্লষ্ট এজেন্টকে মামলার আসামি হতে হয়। দন্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অনেক এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্ট জব্দ হচ্ছে, ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে এবং অনেককে গ্রেপ্তারও হতে হচ্ছে।সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজমে একটি নালিশি মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাব্যস্ত এক বিকাশ-নগদ এজেন্টের সঙ্গে কথা হয়। নোয়াখালী জেলায় বাড়ি ওই ব্যক্তি বলেন, এক লাখ টাকা লেনদেনে ৪০০ টাকার মতো কমিশন পাওয়া যায়। কিন্তু এক প্রতারকের ফাঁদে পড়ে লাখে ৩ হাজার কমিশনের চুক্তিতে নিয়ম না মেনে লেনদেন করেছি। পরে জানতে পেরেছি এগুলো প্রতারণার টাকা। এখন পুলিশ আমার বাড়িতে অনুসন্ধানী ¯ি¬প পাঠিয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডেকেছে। সামান্য লোভে পড়ে আমি নিজের অজান্তেই একটা মামলার আসামি হিসেবে সাব্যস্ত হচ্ছি।ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিদেশে পাচারপ্রতারণার টাকা শুধু দেশে উত্তোলনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর একটি বড় অংশ বিদেশেও পাচার হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্ক। তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে অবস্থানরত হুন্ডি চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশের সাইবার অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে কাজ করে। বিদেশে থাকা কেউ হুন্ডি এজেন্টের কাছে ডলার বা রিয়াল জমা দিলে বাংলাদেশে থাকা প্রতারক চক্র প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া টাকা থেকে সমপরিমাণ অর্থ ওই ব্যক্তির পরিবারের বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। ফলে বৈধ রেমিট্যান্স দেশে না এসে বিদেশেই থেকে যায় এবং একই সঙ্গে প্রতারণার টাকাও পাচার হয়ে যায়।এছাড়া বিকাশ বা নগদের টাকা ব্যবহার করে পিয়ার-টু-পিয়ার প্ল্যাটফর্মে ইউএসডিটি বা বিটকয়েন কেনার প্রবণতাও বাড়ছে। পরে সেই ক্রিপ্টোকারেন্সি বিদেশি ওয়ালেটে স্থানান্তর করে ডলারে রূপান্তর করা হয়। এই পদ্ধতিতে টাকা পাচার হলে তার উৎস শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব কর্পোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, যেসব অ্যাকাউন্টের লেনদেন সন্দেহজনক মনে হয়, আমরা তার প্রতিবেদন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) সরবরাহ করি। অনলাইন জুয়া, হুন্ডি, অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন, অননুমোদিত অ্যাপসহ সংশ্লিষ্ট সব অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিকাশের যথাযথ প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী নিয়োজিত আছে।তিনি বলেন, পাশাপাশি অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো তদন্তে প্রয়োজনীয় সব সহায়তাও দিয়ে থাকি। এমন সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের তেথ্যর ভিত্তিত অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রিতষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অ্যাপস হ্যাকের এগুলো এখনো আমাদের একেবারে নখদর্পনে নেই। তবে আমরা অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং কো¤পানিগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করতে নিয়মিত বলা হয়। আমরা তাদের সঙ্গে মিটিং করি এবং সেখানেও নির্দেশনা দিই। নীতিমালা অবশ্যই মানতে হবে।বিভিন্ন প্রতারণা বা হত্যাকান্ডের ঘটনার টাকা বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কোনো কথা বলব না। তবে এটা আমাদের দেশে নিষিদ্ধ। সিআইডি ও বিএফআইইউ এই ইস্যুগুলো দেখছে। ফলে আমাদেরকে আলাদা করে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন পড়ছে না।বিজ্ঞজনের মতামতচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুনা সাহা বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং কো¤পানিগুলোর নিয়মানুযায়ী মাঠপর্যায়ের এজেন্টদের আয়ের বড় অংশ আসে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা এবং লেনদেনের কমিশন থেকে। ফলে সিম ও এনআইডির মালিক একই ব্যক্তি কি না, তা যাচাই করার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট খুলে কমিশন নেওয়ার দিকেই তাদের মনোযোগ বেশি থাকে। আবার শেয়ারহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের কার্যক্রম বড় পরিসরে দেখানোর জন্য অনেক সময় কো¤পানিগুলো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া অতিরিক্ত সহজ বা শিথিল করে দেয়। এতে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।অধ্যাপক রুনা সাহা বলেন, ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে হুন্ডির টাকা দেশে আনা হয়। পাচারকারী চক্র প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার রেখে দেশে তাদের স্বজনদের মোবাইল ব্যাংকিং বা হুন্ডির মাধ্যমে সমপরিমাণ টাকা পরিশোধ করে। এমএফএস এজেন্ট অ্যাপ বা কাস্টমাইজড সফটওয়্যার ব্যবহার করে এক ক্লিকেই শত শত নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো সাধারণ লেনদেন মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি সুসংগঠিত ডিজিটাল হুন্ডি চক্র। দেশ থেকে টাকা প্রথমে ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে ডলারে রূপান্তর করা হয়। পরে সেই ডলার দিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে স্টেবলকয়েন যেমন ইউএসডিটি কেনা হয়, যার মূল্য সাধারণত ১ ডলারের সমান থাকে। তিনি আরও বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাচার করা সম্ভব এবং পরে তা স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে তুলে নেওয়া হয়। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে পারে না। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, যা বর্তমান অর্থনীতিতে ডলার সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।তিনি আরও বলেন, ডলারের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর প্রায় সব পণ্যের খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। অর্থনীতির ভাষায় একে ব্যয়-বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি বলা হয়। অন্যদিকে দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানত বা জমা টাকার পরিমাণ কমে গিয়ে তৈরি হয় তারল্য সংকট। ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তারা ভালো ব্যবসায়ী বা শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ দিতে পারে না। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করা কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি একদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করছে, অন্যদিকে অর্থ পাচারের মাধ্যমে একটি শ্রেণি বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে। আর এর সামগ্রিক খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষকে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়সারা তদারকি করলে চলবে না। দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব অনিয়ম সামনে আসবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর ব্যাংকের দায়িত্ব শুধু আমানত গ্রহণ ও ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণকে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত স¤পর্কে সচেতন ও শিক্ষিত করাও ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব। কিন্তু ওয়ার্কশপ, সেমিনার, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কিংবা কৃষক-শ্রমিকদের আর্থিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের ব্যাংকগুলোর ভূমিকা খুবই অপ্রতুল।পুলিশের সতর্কবার্তাএদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে গ্রাহকদের জিমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি মেইল ফরোয়ার্ডিং চালু আছে কি না এবং টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো লগইন বা লেনদেন নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ।
৪ মাস ২ দিন আগে
নিরাপত্তা জোরদার করতে জঙ্গল সলিমপুরে বসানো হচ্ছে সর্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা। ড্রোন দিয়ে মনিটর করা হবে সবসময়। সেই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরের আশপাশের পুরো এলাকা জুড়ে বসছে বাড়তি চেক পোস্ট। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। সবমিলিয়ে জঙ্গল সলিমপুরকে নিরাপত্তার কঠিন ঘেরাটোপে রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এই ঘটনা সরকারকে নাড়িয়ে যায়। এর আগেও সেখানে সাংবাদিক থেকে শুরু করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। ফলে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে জঙ্গল সলিমপুর।সূত্র বলছে, র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার পর চলতি বছরের ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে সেনা বাহিনী, পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অভিযান চালায়। অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হয়। গ্রেফতার হয় ১৫ জন। উদ্ধার হয় অস্ত্র-গোলাবারুদ। এমন ঘটনার পর গত ২৪ মে দিবাগত রাতে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগরে র্যাবও পুলিশের যৌথ বাহিনীর ক্যা¤েপ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলায় ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়। হামলায় অংশ নেয় প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী। হামলাকারীরা বুলডজার দিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মাণাধীন ভবন গুড়িয়ে দেয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে রাস্তা কেটে দেয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভারী আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ক্যা¤প ছাড়তে বাধ্য করে। পরে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গোলাগুলি হয়।জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান পরিস্থিতি স¤পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক নাজিমুল হক বলেন, বিষয়টি সরকারের তরফ থেকে অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে কড়া নির্দেশনা এসেছে। সরকার এটিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সন্ত্রাসীদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এ জন্য জঙ্গলসলিমপুর সলিমপুরকে নিরাপদ করতে যা যা করণীয়, তার সবই করা হচ্ছে। চলছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি। সেই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বাড়তি চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। চেকপোস্টে ২৪ ঘণ্টা তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। সেখানে কে বা কারা যাতায়াত করছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের স¤পর্কেও বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দি করে ফেলা হবে পুরো জঙ্গল সলিমপুর। আশপাশের এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব সিসি ক্যামেরায় নাইট ভিশন মোড রয়েছে। যাতে করে রাতের অন্ধাকারেও কেউ যাতায়াত করলে সিসি ক্যামেরা তাদের ছবিও গতিবিধি ভিডিও করে রাখতে পারে।আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক জন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে বহু মানুষের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। মিছিল মিটিংয়ে লোকের জোগান, অবৈধ মাদক চোরাচালান, অস্ত্র-গোলাবারুদের ব্যবসা, সরকারি জমি বেদখল করে লিজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, ঘর ভাড়া দিয়ে কাচা টাকা রোজগার থেকে এমন কোনো বেআইনি কাজ নেই, যা জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে হয় না। সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় জঙ্গল সলিমপুর। এ ছাড়া সেখানকার কিশোর, তরুণ ও তরুণীদের নিয়ে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অনেকেই নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এ ছাড়া আছে মানবপাচারের ব্যবসা। জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। যারা সেখানকার টার্গেটকৃত বাসিন্দাদের উন্নত জীবনের প্রলোভনে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অবৈধভাবে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়। সেখানে দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।ওই কর্মকর্তা জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে অনেক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। যদিও সেটি সম্ভব হয়নি। তাই দলবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো জঙ্গল সলিমপুরকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কানেকশন রয়েছে জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের পেছনে দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মদত থাকার বিষয়টি দিবালোকের মতো ¯পষ্ট। পুরো ঘটনাটি একটি মেকিং গেম। এমন গেমের কারণ জানতে আরো সময় লাগবে।তবে প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, পুরো পাহাড়কে অশান্ত করার নীল নকশার অংশ হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এখন শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো বড় বিপদ আসবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।এক সময় তিন হাজার ১০০ একর জায়গায় হাজার হাজার সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য ছিল। প্রায় ৩০ বছর জঙ্গল সলিমপুর ছিল সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে। পুরো বিষয়টির সঙ্গে বিদেশি যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিদেশিদের বাংলাদেশে থাকা এজেন্টদের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এসব ভারী আগ্নেয়াস্ত্র বিভিন্ন সীমান্ত পথে বা সমুদ্র পথে জাহাজে করে চট্টগ্রামে আনার পর সেগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে পৌছে যায়। জঙ্গল সলিমপুরসহ সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভারি অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছে সন্ত্রাসীরা। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের কারো কারো নাম আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে পুরোপুরি নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যদিও সেখানকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। জঙ্গল সলিমপুরে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ, র্যাব, সেনা বাহিনী, বিজিবি সদস্যদের সুযোগ সুবিধা আরো বাড়ানো হবে। তাদের হাতে দেয়া হচ্ছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও উন্নত প্রযুক্তি। যাতে করে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তারা সক্ষম হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৪ মাস ২ দিন আগে
সাবেক এমপি এম এ লতিফের কাছে দুটি ফ্লোরের তিন বছরের বকেয়া ভাড়া বাবদ সাড়ে ৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার! এই টাকা আদায়ে আইনি নোটিশ দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।মঙ্গলবার (২ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশও দেওয়া হয়। এরপরও বকেয়া ভাড়া আদায় না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে ফ্লোর দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় চট্টগ্রাম চেম্বার।চট্টগ্রাম চেম্বারের তথ্যমতে, দেশের একমাত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দুটি ফ্লোরে ২৬ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন তো দূরের কথা, তিন বছর ধরে ওই জায়গা ব্যবহার করেও কোনো ভাড়া পরিশোধ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ সেখানে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার কোর্স পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।চেম্বার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাড়া পরিশোধ না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন প্রক্রিয়া, অবকাঠামো নির্মাণ, আসবাবপত্র স্থাপন এবং জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্সসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দীর্ঘদিন ফ্লোর দুটি আটকে থাকায় চেম্বার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।চট্টগ্রাম চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সচিব নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ আর সেখানে আসেননি। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লোরও বুঝিয়ে দেননি। দীর্ঘদিন ভাড়া বকেয়া থাকায় আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে বকেয়া পরিশোধ না করায় ফ্লোর দুটি চেম্বারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।বকেয়া অর্থ আদায়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সংবেদনশীল। নতুন কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এম এ লতিফ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম চেম্বারে নিজের প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার পর ২০২২ সালে তিনি ‘ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এতে তৎকালীন চট্টগ্রাম চেম্বারের কয়েকজন নেতা, এম এ লতিফের আত্মীয়স্বজন এবং তার তিন ছেলেকে ট্রাস্টি করা হয়।চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বার এবং প্রস্তাবিত ‘ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’ বোর্ড অব ট্রাস্টির মধ্যে ভাড়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মোট ২৬ হাজার ২০৬ বর্গফুট জায়গা প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা হিসেবে মাসিক ১০ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। জামানত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া বাবদ ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জমা দেয়।চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ শেষে ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। চট্টগ্রাম চেম্বারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ছয় লাখ টাকারও বেশি। এ অবস্থায় ফ্লোর দুটি ফেরত এবং তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া ভাড়া আদায়ে আইনি নোটিশ দেয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে এম এ লতিফের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশের জবাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া ফেরতের দাবিও জানানো হয়।এ বিষয়ে জানতে ’ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’র ট্রাস্টি ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ওমর হাজ্জাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
৪ মাস ৭ দিন আগে