কেয়ামতের নমুনা দেখল নেপাল, নিহত বেড়ে ৫৪৭
নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পাশের কয়েকটি জেলায় হড়পা বানের এই মহাদুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত নিখোঁজ এক হাজার ৩৪৩ জন। এর মধ্যে ৯০৪ জনই দেশি-বিদেশি পর্যটক। বাকিরা স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তাকর্মী। নিখোঁজ পর্যটকের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় নাগরিক, ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৩৩ জন অস্ট্রেলীয় এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছে বলে সর্বশেষ জানা গেছে। ‘হড়পা বানের’ এই মহাদুর্যোগকে অনেকেই ‘কেয়ামতের নমুনা’ বলে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) এবং পুলিশের হালনাগাদ প্রতিবেদন এই তথ্য জানানো হয়েছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে নওয়ালপরাসি পশ্চিম ও নওয়ালপরাসি পূর্বের নারায়ণী নদী থেকে।বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা মরদেহের সংখ্যা- রাসুয়া- ১২, নুয়াকোট- ৩৭, ধাদিং- ৩৩, খোরখা- ৪৬ (মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গও রয়েছে), চিতওয়ান - ২৮, নওয়ালপরাসি পশ্চিম - ১৩৪, নওয়ালপরাসি পূর্ব - ২২১। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রাসুয়া থেকে অধিকাংশ মরদেহ নদীর স্রোতে ভেসে নিচের দিকে চলে গেছে বলেও জানায় পুলিশ।এদিকে নেপালের সরকার বন্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ থাকা শত শত পর্যটকের নাম প্রকাশ করেছে। তালিকায় ৫৩৭ জন বিদেশি নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ এবং জাতীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে বুধবার বন্যা আঘাত হানার পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ১৪ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নেপালের পাশাপাশি চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বতেও এই দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে পাঁচজনের মৃত্যু ছাড়াও নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক। রয়টার্সের খবরেও নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, সীমান্তের দুই পাশেই নিখোঁজদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি পর্যটক। প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ভয়াবহ দুর্যোগ যেভাবে গত বুধবার স্থানীয় সময় সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলের রাসুয়া জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটির ধস নদীতে পড়ে ভয়াবহ আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানি ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুতগতিতে নদী উপত্যকা দিয়ে নেমে এসে বসতি, বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ অন্যান্য স্থাপনা ভাসিয়ে নেয়। বন্যার প্রবল স্রোত ভুটে কোশি, ত্রিশূলীসহ সংশ্লিষ্ট নদী অববাহিকা ধরে নিচের দিকে নেমে এবং তিমুরে ও স্যাপ্রুবেসি এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থলবন্দর ও আশেপাশের অবকাঠামোও বন্যার পানিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলেছে, হিমবাহের ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকে আকস্মিক এই বন্যা হয়েছে। নদীগুলোতে ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় এ ধরনের আরও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গম ভূপ্রকৃতি, খারাপ আবহাওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের জন্য নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের ত্রিশূলী ও অন্যান্য নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানির স্রোত ও কাদার কারণে বহু স্থানে স্বাভাবিক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় বিশেষত দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও জানাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে নুয়াকোট জেলার বিদুর ও এর পাশের জনপদগুলো রয়েছে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, আজ তিব্বত অংশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। ঘটনার দিনেই দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সর্বাত্মক উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দিকে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। পরে ভূকম্পন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্প নয়, বরং ভূমিধস থেকেই ওই ভূকম্পনজনিত শক্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার সঙ্গে এই দুর্যোগের যোগসূত্র রয়েছে।আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাটি জানায়, নেপালের রাসুয়া জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকা থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নদীর উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। ফলে নদীতে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ তৈরি হয়। পরে সেই স্রোত নেপালের বিভিন্ন জনপদ এবং চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।রয়টার্সের মতে, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাগরিকদের মধ্যে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটির রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। নেপালকে পাঁচ লাখ ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, দেশটির অন্তত ৩৪ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কলকাতারই ৩২ জন।চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। চীনের গিরং সীমান্তপথটি চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র। এদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতের বন্যা কবলিত গিরং কাউন্টিতে আরও একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। একটি নদীর সংযোগস্থলের কাছে পানি আটকে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ বা জলাধার থেকে পরবর্তী সময়ে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, নেপালে উদ্ধার তৎপরতায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী ও জরুরি সেবা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন এবং অনেক এলাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালি সেনাবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম ভূখণ্ড ও প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, নদীর পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, কাদামাটির নিচ থেকে একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশটি দেখা যাচ্ছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি বিবৃতিতে বলেছে, এই দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে তাঁরা সতর্ক করেছেন। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মী মোতায়েন করেছে।নতুন হ্রদে ফের প্রবল বন্যার ঝুঁকিনেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোটে কোশি নদীতে নতুন করে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় ভাটির অঞ্চলে ফের প্রবল বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গতকাল জানিয়েছে, এই তথ্য নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে। নেপাল ও চীন দুই দেশই বলছে, নতুন তৈরি হওয়া এই হ্রদ চলমান জটিল উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। হ্রদটি ধসে প্রবাহিত হলে আকস্মিকভাবে ভাটির দিকে প্রচুর পানি ধেয়ে আসতে পারে। এতে নদীর তীরবর্তী জনবসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।বুধবার সীমান্তের তিব্বত অংশে ভূমিধস বা তুষারধসে নেপাল অংশে ভোটে কোশি নদীর উজানে প্রবাহ বন্ধ হয়ে অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে বুধবার নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলায় প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানে ওই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নেপালের উদ্ধারকারীরা এখনো বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মানুষদের খুঁজছেন। ভাটির বেশ কয়েকটি জেলা থেকে এ পর্যন্ত ৩৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা নতুন করে বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন করছেন। এজন্য কর্তৃপক্ষ প্রধান প্রধান মহাসড়কে যান চলাচল সীমিত করেছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।স্যাটেলাইট ছবি এবং প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুসারে, তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়িঢল এবং ভূমিধসে ভোটে কোশি নদীতে আরো একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। এই জমা হওয়া পানির হ্রদ আকারে ক্রমাগত বড় হচ্ছে। হ্রদটি যেকোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে নদীর নিম্নাঞ্চলে ফের তীব্র হড়পা বান নেমে আসতে পারে। এই ঝুঁকির মুখে ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদেরকে নদীর তীর ও অন্যান্য বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪:৪৬ মিনিটে জারি করা ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ ভোটে কোশি নদীর ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার অভিযান এবং অন্যান্য জরুরি কার্যক্রমে জড়িত কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং ভ্রমণকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে।এর অগে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ও প্রাথমিকভাবে চোছেন নদী এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে বড় ব্যারিয়ার লেক (প্রাকৃতিক বাঁধের ফলে সৃষ্ট হ্রদ) তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছিল। চীনা গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের বরাত দিয়ে চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন জানিয়েছে, যদিও হ্রদ থেকে পানিপ্রবাহ শুরু হয়েছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী তিনদিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এই হ্রদে প্রবেশ করবে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এতে কূল ধসে হ্রদটির প্রবাহিত হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।