জাতীয় রাজস্ব (এনবিআর) বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। দুই বছর চেয়ারম্যান থাকার পর তার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ নতুন রাজনৈতিক সরকারের নীতি-কৌশলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না তিনি। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও শোনা যায়— তিনি কারও কোনো পরামর্শ শোনেন না। তাহলে প্রশ্ন আসে কে হচ্ছেন এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান। এ প্রশ্নের উত্তরে জানা গেছে, এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হতে রেস বা প্রতিযোগীতা শুরু করেছেন ৭ জন। এরা হলেন, রাজস্ব বোর্ডের সদস্য কর প্রশাসন আহসান হাবিব। তার বাড়ি বরিশাল। সরকারঘনিষ্ঠ দুজনের মাধ্যমে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যাট-অডিট ও নিরীক্ষা সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমেই চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য তদবির করছেন তিনি। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর, আবার শ্বশুরবাড়ি বরিশাল। তিনি একসময় বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংক এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) চাকরি করতেন। রেসে আছেন শুল্ক প্রশাসনের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলে। বুয়েটে দুবছর পড়ার পর বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে পড়ার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ব্যাচমেট ছিলেন বলে শোনা যায়। এছাড়া রয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের করনীতির সদস্য মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। বাড়ি জামালপুরে। তার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি নিজেই ঘনিষ্ঠজনদের বলছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ পুরনো।সৈয়দ আবু দাউদ রাজস্ব বোর্ডের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। চট্টগ্রামের কানেকশনে তিনি এ পদের জন্য আগ্রহী। সরকারের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ীও তার বিষয়ে লবিং করছেন বিভিন্ন মহলে।ভূমি অ্যাপিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আবদুল্লা হিল বাকী। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর ছোট ভাই।সমাজকল্যাণ সচিব আবু ইউসুফের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। পরিশ্রম করতে পারেন। উদ্যমী হয়ে কাজ করার মানসিকতা রয়েছে তার। তার চ্যানেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে তিনিও।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন উইংয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসা-শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে রোষাণলে পড়তে পারেন অথবা নিজের ক্ষতি হতে পারে এই ভয়ে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কারণ রাজস্ব বোর্ড এমন শক্তিশালী সরকারি সংস্থা চাইলে যখন-তখন যে কারোর ওপর চড়াও হতে পারে। বিষয়টি জানার জন্য ভ্যাট-অডিট ও নিরীক্ষা সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বলছেন, ‘এসব নিয়ে অহেতুক মিথ্যা ট্রল হয়। এ নিয়ে আমরা খুবই বিব্রত।’তবে একই পদমর্যাদার আরেকজন জানালেন, কেউ চেয়ারম্যানের দৌড়ে আছেন এ খবর এলেই তো ৩০০/৪০০ কোটি টাকা খরচের ট্রল শুরু হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রশ্ন করতে থাকে, সত্যি আমরা এ নিয়ে বিব্রত হই। কারও যদি এতো টাকা থেকেই থাকে, তাহলে সে পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা গিয়ে অবকাশযাপন না করে কেন সাধারণ মানুষের গালি শুনবে, মন্ত্রীর ঝাড়ি খাবে।শুল্ক প্রশাসনের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন জানালেন, ‘চেয়ারম্যান হতে চাই না। এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’ চাকরির মেয়াদ আছে আর ৬ মাস।আরেক কর্মকর্তা বললেন, ‘পদটা একটা ‘হাবিয়া দোজখ। ঢাকা-চট্টগ্রামে যেসব খনিতে যে সময়ে চাকরি করেছি, তখন টাকার দাম ছিল বেশি, জমির দাম ছিল কম। এখন জমির দাম অনেক বেশি। কিন্তু সে পথে হাঁটিনি কখনো।’রাজস্ব বোর্ডের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু দাউদ জানালেন ভিন্ন কথা, ‘চাকরির মেয়াদ আছে আরও ১১ মাস। একটু শান্তিতে থাকতে চাই।’অন্য একজন কর্মকর্তা নিজের পরিচয় গোপন করে জানালেন, এই রেস থেকে ৩ মাস আগেই সরে এসেছি। এ পদে যারা কাজ করছেন বা করেছিলেন তাদের অনেকেই এখন ঝামেলায় আছেন। এ পদ এখন একটি বিরাট বোঝা মনে হয়। বুদ্ধিমানদের কেউই এ পথে হাঁটবেন না। সূত্রমতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে শীর্ষ পর্যায়ে কারা কোন পদ পাবেন এ নিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বরিশালের মধ্যে প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। এসব এলাকার অন্তত ৭ জন নতুন চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। নানা উপায়ে চেষ্টা-তদবিরও করছেন তারা। যদিও এদের অনেকে তা অস্বীকার করছেন। এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান কাকে বানাবেন সে বিষয়ে খুবই সতর্ক ও সংবেদনশীল। বোর্ড প্রধানের ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আহরণের গতি ও সাফল্য। আগামী অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে অন্তত ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ঘোষিত বাজেটে।এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদার, ব্যবসাবান্ধব ও সৎ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে না পারলে পদে পদে অর্থনীতি হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ চেয়ারম্যানের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আয়ে সফলতা-ব্যর্থতা। কোনো কারণে রাজস্ব আদায়ের ১ শতাংশও হেরফের হলে ৬ হাজার ৪০ কোটি টাকা কম আদায়ের আশঙ্কা থেকে যায়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কমকর্তা জানান, এনবিআর চেয়ারম্যানের কোনো পদক্ষেপে ভুল করা যাবে না। তাকে রাজস্ব আদায়ে মনোযোগী একই সঙ্গে উদ্যোগী হতে হয়। যাদের কাছ থেকে কর আদায় হয়, তাদেরকে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করে নতুনভাবে বিস্তৃত করতে হবে কর জাল। অর্থাৎ খুঁজে বের করতে হবে নতুন করদাতা।প্রায় ২০ বছর পর বিএনপি সরকার এবারের বাজেট ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট। বিশ্বের টালমাটাল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ সরকারের জন্য অর্থনীতি সচল রাখা ও উজ্জীবিত করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এরকম পটভূমিতে কাকে করা হবে বা কে হতে যাচ্ছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান? এটা এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ যাকে বলা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রধান রক্ষক।
৩ মাস ২৭ দিন আগে
কোম্পানিগুলোর হাতে ৫১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, অলস ও অনিষ্পন্ন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গ্রাহকদের ৪ হাজার ৪০৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বৈধ বীমা দাবি। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, প্রগতি লাইফ, পপুলার লাইফ, মেঘনা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, এনআরবি লাইফ, রুপালী লাইফ, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ, হোমল্যন্ড লাইফ, ডেল্টা লাইফ, সান লাইফসহ প্রায় সবকটি বীমা কোম্পানি। এমনকি জীবন বীমা করপোরেশন, আমেরিকান লাইফ ও মেটলাইফ বাংলাদেশের মতো বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকের বীমা দাবি ঝুলিয়ে রেখে নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে। করছে চরম অনিয়ম। এতে তৈরি হচ্ছে অর্থ সংকট। যার দায় বইতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
৪ মাস ২ দিন আগে

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধে, যা সামগ্রিক আর্থিক চাপ আরও বাড়াবে।এমন ভোগের বাজেট দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতি বিশ্লেষক এম হেলাল আহমেদ জনি। তিনি বলেন, এ বাজেট হবে ভোগের, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ‘উচ্চভিলাষী’ এবং কাঠামোগতভাবে অনেকাংশে ‘গতানুগতিক’। কেননা বাজেটের আকার, উন্নয়ন ব্যয়, পরিচালন ব্যয় এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস করার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এবার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে পারে। বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় যা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিপরীতে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন খাতের তুলনায় পরিচালন ব্যয়ই বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। এই বড় ব্যয় মেটাতে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।আসন্ন বাজেটে যে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে, তা মূলত ব্যয় করা হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের পেনশন ও গ্র্যাচুইটির টাকা এই পরিচালন ব্যয় থেকেই পরিশোধ করা হয়। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, কৃষি (সার, বীজ) এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স খাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ও নগদ প্রণোদনা দিতে হয়। সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য গাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি খরচ, স্টেশনারি, অফিসের বিদ্যুৎ ও পানির বিল, আপ্যায়ন এবং প্রচার-প্রচারণা বাবদ খরচ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিশেষ করে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং দুস্থদের মাঝে ভিজিডি-ভিজিএফের চাল বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নগদ অর্থায়ন করা হয়।এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি খরচ করা হয়, তাকে উন্নয়ন ব্যয় বলে। বাংলাদেশে এটি মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি নামে পরিচিত। এতে যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন করা হয়। এসব উন্নয়নের ফলে সরকারি-বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিচালন ব্যয়ের ধারাবাহিক উল্লম্ফনের কারণে উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, সরকারি বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় সংকুচিত হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাদের ভাষ্য, একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করছেন, সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধন নীতি কার্যকর না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর, বিলাসবহুল গাড়ি কেনা এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কার এবং এডিপি বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশ বর্তমানে নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্র থাকলে নীতি স্পষ্ট হতো, কিন্তু এমন উদ্যোগ নেই। অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও অতিরিক্ত উন্নয়ন ব্যয়ের পরিকল্পনা অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে। দেশ বর্তমানে নানা অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার তিন-চার মাস পার হলেও অর্থনীতিকে কী অবস্থায় পেয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি। সরকার ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড বা খাল খননের মতো কর্মসূচি নিয়ে বেশি আলোচনা করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা কিংবা কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়গুলো মনোযোগে আসছে নাতিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে স্বল্পমেয়াদি একটি অর্থনৈতিক কৌশলপত্র দিতে পারত, যাতে নীতির ধারাবাহিকতা ও সংকট উত্তরণে করণীয় স্পষ্ট হতো। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এডিপির ৪০-৫০ শতাংশই বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাকে আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দিয়ে বাস্তবায়নের কথা বলছেন। সেখানে যে দেড় হাজার প্রকল্প আছে তার থেকে আপনি নোংরা পরিস্কার করলেন না। এটার মাধ্যমে আপনি পুরোনো পরিস্থিতিকেই আবার নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। আয়ের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে রাজস্ব বোর্ডকে তা পরিপালন করার সুযোগই তার নেই। সরকারের উচিত ছিল স্থিতিশীলতা কর্মসূচির মধ্যে থেকে যতটুকু আয় হবে, সেই সীমার মধ্যেই ব্যয় নির্ধারণ করা।অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির এক কঠিন রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নেমে আসা এবং যুব বেকারত্বের হার ১১.৫ শতাংশে পৌঁছানো দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া বাজেটের পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়াতে না পারলে সরকারকে ক্রমাগত ঋণের পরিমান বাড়াতে হবে। যেটি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র ৫৭.২৩ শতাংশ। আসন্ন বাজেটের লক্ষ্যপূরণে রাজস্ব আদায়ের দিকে ঝুকতে পারে সরকার। এতে সামগ্রিক আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
৪ মাস ২০ দিন আগে
পানির বিল নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, গ্রাহক পানি ব্যবহার না করলেও মাসিক নির্দিষ্ট ফি গুনতে হবে। পাশাপাশি পানির ব্যবহার বাড়লে বাড়বে বিলও। বর্তমানে প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানিতে আবাসিক গ্রাহককে ১৮ টাকা এবং অনাবাসিকে (শিল্প ও বাণিজ্য) ৩৭ টাকা গুনতে হয়।চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য এই ‘টু-পার্ট ট্যারিফ’ বা দুই অংশের বিল কাঠামো প্রস্তাব করেছে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট ইন্ডিয়া। ঘাটতি পূরণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিল পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নতুন এই বিল পদ্ধতি ঢাকাসহ দেশের কোনো ওয়াসায় নেই। এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুর দাবি, ‘নতুন ট্যারিফ চালু হলে ভোক্তার ওপর বিলের বোঝা বাড়বে। সিস্টেম লসের নামে যে বিপুল পরিমাণ পানি চুরি হয়, সেটি গড় বিল করে পোষায় ওয়াসা। এই ট্যারিফের মাধ্যমে সেটিকে বৈধতা দিতে চায় তারা। মানুষের ওপর বিলের বোঝা না কমিয়ে সিস্টেম লস বন্ধ করুক ওয়াসা।’পারু বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার সিস্টেম লস প্রায় ২৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা বছরে ৪৭ হাজার ৪২০ কোটি লিটার। এই বিশাল অপচয় বা চুরি রোধ না করে নতুন ট্যারিফ আরোপ করে গ্রাহকের ওপর বোঝা চাপানো কেনোমতেই উচিত নয়।তবে ভিন্ন কথা বলছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম। তিনি বলেছেন, নতুন ট্যারিফ বাস্তবায়ন হলে বিল বাড়বে না। বরং গড় বিল নিয়ে যে সন্তোষ আছে তা প্রশমন হবে। বর্তমানে প্রতিদিন এক ইউনিট হারে প্রতি মাসের সর্বনিম্ন গড় বিল দিতে হয়। যেটি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় পানির বিল দুভাগে নির্ধারণ করা হবে। একটি নির্দিষ্ট মাসিক ফি, অন্যটি ব্যবহারের ওপর চার্জ। বর্তমানে যে ন্যূনতম এক ইউনিট বিলের ব্যবস্থা রয়েছে, নতুন মডেলে সেটি বদলে পরিবার সংখ্যা ও পানি ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দুটি প্রস্তাবের মধ্যে ‘প্রস্তাব-১’-কে তুলনামূলকভাবে কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব হিসেবে বিবেচনা করেছে ওয়াসার গঠিত কমিটি।এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এক থেকে চারটি পরিবারের জন্য মাসিক নির্ধারিত বিল হবে ৩২৫ টাকা। এর আওতায় ২৫ ইউনিট পানি ব্যবহার করা যাবে। পাঁচ থেকে ১০টি পরিবারের জন্য নির্ধারিত বিল হবে ৯৭৫ টাকা, যেখানে ৭৫ ইউনিট পানি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ১০টির বেশি পরিবারের ক্ষেত্রে মাসিক বিল হবে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, যার মধ্যে ১৫০ ইউনিট পানি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা করে দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য এই হার ৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৮০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে ১৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য মাসিক ৭৫০ টাকা নির্ধারিত ফি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর নির্ধারিত ও পরিবর্তনশীল উভয় ধরনের ট্যারিফে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিকল্প আরেকটি প্রস্তাবে প্রথম ৩০ ইউনিট পর্যন্ত সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ন্যূনতম ৬৫০ টাকা বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ইউনিটপ্রতি মূল্য ২৩ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত টু-পাট ট্যারিফের নতুন পদ্ধতি যাচাই-বাছাই করতে কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কমিটি ৯ দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশের ভিত্তিতে দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য গঠিত কমিটির সভায়। সিদ্ধান্তগুলো হলো— বিল পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য অংশীজনের সঙ্গে সভা করা ও বর্তমান প্রচলিত রাজস্ব হ্রাস পাবে কি না, তা বিশ্লেষণ করা। তবে কমিটি বোর্ড মিটিংয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদন হলে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন ট্যারিফ গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্যমতে, বর্তমানে ওয়াসার মোট সংযোগ সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ২২২টি। এর মধ্যে ৯২ হাজার ১১২টি আবাসিক ও ৯ হাজার ১১০টি অনাবাসিক। বর্তমান সংযোগের মধ্যে পানির ব্যবহার ৯১ শতাংশ আবাসিকে ও ৯ শতাংশ অনাবাসিকে।
৪ মাস ২৯ দিন আগে