এইচএসসি পরীক্ষা দ্রুত শুরুর দাবিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষার্থীরা
বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত করার দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফটকের দরজা ভেঙে খালে ফেলে দেওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এবার দ্রুত সময়ে পরীক্ষা শুরুর দাবি নিয়ে গেছে সেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দরজায়। পরীক্ষার রুটিনে যৌক্তিক বিরতি রেখে পরীক্ষা শুরুর দাবি নিয়ে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে তারা।চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ ও ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে গিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেন।চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি আগামীকাল সোমবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন বলে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ ও সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে এসেছিলেন এবং চেয়ারম্যান তাঁদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি। স্মারকলিপিতে পরীক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ে স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর পাশাপাশি পরীক্ষার রুটিন এমনভাবে প্রণয়নের দাবি জানান, যাতে প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে যৌক্তিক বিরতি থাকে। তাঁদের যুক্তি, এতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাবেন পরীক্ষার্থীরা।স্মারকলিপি প্রদানকালে চট্টগ্রাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পক্ষে এস এম নাজিফ নূর, মোহাম্মদ জাঈদুল কবির, মারুফ হোসেন তাসিন, মো. মাহতাবুর রহমান, শাদমান করিম ও মো. হাসিবুল মজিত অয়ন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারি সিটি কলেজের পক্ষে মো. জায়েদ চৌধুরী, মো. রইস জামাল ওয়াফি ও তৌসিফ মাহমুদ এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের পক্ষে শাহরিয়ার হাশিমসহ অন্য পরীক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার চলমান সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তিসহ তিন দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। এ সময় বোর্ডের প্রধান ফটক ভেঙে খালে ফেলে দেওয়া হয়। সেই সাথে সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ওই সময় জানান, দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় অনেক পরীক্ষার্থী পানি ও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশাপাশি সারা দেশে পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানান তাঁরা। দাবি মানা না হলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে বলেও কর্মসূচিতে জানান শিক্ষার্থীরা।