মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেহব্যবসা সিন্ডিকেটের মূল হোতা বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রীসহ ২৩ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জনসাধারণের দেওয়া গোপন তথ্য এবং সিন্ডিকেটটি সম্পর্কে দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এবং জালান গেলুগোর এলাকার দুটি ভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। আর এই চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা একজন বাংলাদেশি পুরুষ এবং তার স্ত্রী একজন থাই নারী। এছাড়াও স্থানীয় এক মালয়েশিয়ান নাগরিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করত। ধারণা করা হচ্ছে, সিন্ডিকেটটি গত দুই মাস ধরে এই তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া আরও জানান, যাচাইয়ে দেখা গেছে যে আটককৃত কারো কাছেই বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস ছিল না। অভিযানে আটতকৃতদের কাছ থেকে কর্মকর্তারা চারটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি থাই পাসপোর্ট, একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, কনডম এবং নগদ ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত জব্দ করেছেন, যা দেহব্যবসা থেকে অর্জিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, এই চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তাদের অনৈতিক কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন দিত। এর মাধ্যমে তারা আবাসিক চত্বরের ভেতরে থাকা গ্রাহকদের আকর্ষণ করত, যাদের একটি বড় অংশই হলো ক্ল্যাং ভ্যালিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী।তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটককৃত ওই বিদেশি দম্পতি (বাংলাদেশি পুরুষ ও থাই নারী) সেখানে কর্মরত কর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের জিম্মায় রেখে দিত। নারী কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রেখে তাদের গতিবিধি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হতো এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১ মাস ২০ দিন আগে
কলকাতায় নিউমার্কেট এলাকায় ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুনে পৃুড়ে মারা গেলো বাংলাদেশি এক সাংবাদিক পরিবারের চার সদস্য। এছাড়া ঢাকার অধিবাসী আরও এক শিশু মারা গেছে। মৃত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনগত মধ্যরাতের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ছয়জন দ্বগ্ধ হয়েছেন। তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন— কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশিস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের তার শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত (২) এবং দেবাশিসের শশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার শিশু আহমেদ বাবু (২)ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, মৃত বাংলাদেশি নাগরিকরা চিকিৎসা নিতে কলকাতায় এসেছিলেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের বেশিরভাগ লোক ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের সঙ্গে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, আগুনের সময় অনেকে ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ল্যাডার ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন।খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তাদের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে পড়াদের উদ্ধার করে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে এসি বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত বাংলাদেশিরাও কলকাতায় কেন এসেছিলেন তার অনুসন্ধান চলছে। সার্বিক বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
১ মাস ২০ দিন আগে
নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ে ক্রমেই অচ্যুত হয়ে উঠছেন ড বিসর্গ হাছান মাহমুদ, ডাক পাচ্ছেন না দলীয় অনুষ্ঠানেও। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানেও দলের আমন্ত্রণ পায়নি চিকন চতুর সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাধারণ প্রবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাঁকে অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পের কক্সপ্লেইনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল হক। প্রধান বক্তা সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী রতন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের নেতা খোকন শরীফ, হুমায়ুন মাকসুদ হিমু ও মোশারফ হোসেন বাবু। বেলজিয়ামে অবস্থান করলেও এই অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দলটির ইউরোপে অবস্থানকারী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ হাছান মাহমুদের ওপর বিরক্ত। তাঁদের ভাষায়, দলের কেউ তাকে পছন্দ করছেন না। সবাই তার ওপর বিরক্ত। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সমালোচিত নেতাদের একজন হিসেবে দলীয় কর্মীদের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।গত ১৬ জুলাই বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সহ-আয়োজনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, মানবাধিকার এবং ভূ-রাজনীতি: প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এই আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বেলজিয়ামে থাকা হাছান মাহমুদকে।এ নিয়ে বসে নেই সাইলেন্ট কীলার হাছান মাহমুদও। বেলজিয়ামভিত্তিক একটি সূত্র জানান, অতিথি হিসেবে তাকে রাখা হচ্ছে না— এমন ইঙ্গিত পেয়ে একপর্যায়ে অনুষ্ঠানটিই বানচাল করার চেষ্টা চালান গোপনে।তবে হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ট এক ব্যক্তির দাবি, বেলজিয়াম ছাড়াও যুক্তরাজ্যে যাতায়াত থাকলেও দুই দেশের আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও হাছান মাহমুদ খুব একটা যান না বলে। রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কায় তিনি এসব অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন। লন্ডনে ছেলের সঙ্গে থাকলেও সেখানে অনেকটা আড়ালে থাকছেন তিনি।হাছান মাহমুদের ছেলে সাফওয়ান মাহমুদ লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ আমলে নাফিসা গ্রিন টিভি নামের একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে আবির্ভূত হন। আরেক মেয়ে সাকিলা জুমাইদা মাহমুদ পরিবারের সঙ্গেই আছেন। হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা বর্তমানে বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্য আসা-যাওয়ায় রয়েছেন। বেলজিয়ামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা এক প্রবাসী নেতা বলেন, ব্রাসেলস থেকে হাছান মাহমুদের বাড়ি প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে। তিনি সেখানেই থাকেন। বেলজিয়ামে তাঁর আরও অন্তত চারটি বাড়ি আছে। সম্প্রতি তিনি নতুন করে বেলজিয়ামের পাসপোর্ট নিয়েছেন।লাঞ্ছিত হচ্ছেন ঘাটে ঘাটেগত বছরের ১৯ ডিসেম্বর জার্মানির কোলনের উলিথজক্যাস্টরে আওয়ামী লীগের একটি সভায় উপস্থিত হওয়ার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি দল হাছান মাহমুদের দিকে তেড়ে যায়। তাঁরা আওয়ামী লীগের বর্তমান দুর্দশা ও দুর্নীতির অন্যতম কুশীলব হিসেবে তাঁকে সরাসরি দায়ী করেন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি নীরবে সভাস্থল ছেড়ে যান।ওই সময় বার্লিন থেকে যাওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা হাছান মাহমুদের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলেন, আপনাদের লোভ আর দুর্নীতির কারণেই দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। হুমকির মুখে আছে সবার জীবন। আহত-নিহত নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজখবর আপনি রাখেন নাই। যাকে ইচ্ছা তাকে দলে ঢুকিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির কারণে দল আজ বিপর্যস্ত, দিশেহারা।গত বছরের ৩০ মার্চ ছেলেসহ তাঁকে প্রথম দেখা যায় লন্ডনের গ্যাংসহিল এলাকার আল-কালাম মসজিদের ঈদের জামাতে। এরপর ওই বছরের ২০ এপৃল লন্ডনের ওটু এলাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের ছেলে ডা. সৈয়দ ফাইয়াজ রহমানের বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে অংশ নিতে দেখা যায়।শেখ হাসিনার সাক্ষাতেও অস্বস্তিবেলজিয়ামে থাকলেও হাছান মাহমুদ দু‘বার ভারতে গিয়ে অনেক চেষ্টার পর একবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন হাছান মাহমুদ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় প্রধানের প্রশ্নবাণে ওই সাক্ষাৎ খুব স্বস্তিকর ছিল না।দলীয় একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন হাছান মাহমুদ। তবে ওই আয়োজনে দলের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে রাখা হয়। গণ আন্দোলনের মুখে বেলজিয়ামেগণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাছান মাহমুদ পালিয়ে যান বেলজিয়ামে। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে ঢাকার বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে বলে খবর বের হয়েছিল। এরপর তিনি সেনা হেফাজতে ছিলেন বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় জার্মানি হয়ে তিনি নিরাপদে বেলজিয়ামে পৌঁছান। এরপর থেকে তিনি বেলজিয়ামের লিমবুর্গ প্রদেশের হ্যাসেল্ট সিটিতে নিজের বাড়িতেই আছেন। এর আগে ওই সালের ৪ আগস্ট রাতে হাছান মাহমুদের স্ত্রী ও মেয়েরা বাংলাদেশ বিমানের ইকে-৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। তাঁদের গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। দুবাই, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বেলজিয়ামেও হাছান মাহমুদ বিপুল অংকের টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আওয়ামী লীগ বেচে কুঁড়েঘর থেকে রাজপ্রাসাদে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর হাছান মাহমুদের রাজনৈতিক ভাগ্য বদলাতে শুরু করে। পরে ২০০৯ সালের মহাজোট সরকারের প্রথম ছয় মাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে জলবায়ু তহবিলের বিপুল অংকের টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সর্বশেষ তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।গত বছরের ১৬ জানুয়ারি হাছান মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমা, মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদসহ তাঁদের ছয়টি কোম্পানির নামে থাকা মোট ৮১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। হাছান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাইরে যে ছয়টি কোম্পানির ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়, সেগুলো হলো দ্য বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস লিমিটেড, একাডেমি অব মেরিন এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস, জেএএস লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেড এবং অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সোলারস পাওয়ার লিমিটেড।ওই বছরের ২৩ জুন হাছান মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে তার আগেই তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ওই বছরের ১৬ জুলাই হাছান মাহমুদের মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদের নামে চারটি এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ১২১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ঝুলছে একাধিক মামলাগত ৩০ জুন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাসহ অন্তত ৩০টি মামলা ঝুলছে। এছাড়া দখলবাজি, চাাঁদাবাজি, নির্যাতনসহ অারও ১০টি মামলার আসামি হাছান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদ-এরশাদ মাহমুদ প্রকাশ নব্য এরশাদ শিকদার।
১ মাস ২৪ দিন আগে
ভারতের উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ১০ রুপি দরে গোমূত্র কেনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলার ১৫টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা সফল হলে পরবর্তীতে রাজ্যজুড়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি লিটারের দাম সর্বোচ্চ ২০ রুপি পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুলন্দশহরের সিয়ানা তহসিলের নারসেনা গ্রামের একটি ‘ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন’ (এফপিও)-এর মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রমটি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৫টি গ্রামের পশুপালকদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর জন্য প্রতিটি গ্রামে গোমূত্র সংরক্ষণের জন্য ২০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো- দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা বয়োস্ক গরুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা। কারণ দুধ দেওয়া বন্ধ করা গাভীদের আর্থিক বোঝা মনে করে কৃষকরা সেগুলোকে রাস্তাঘাটে বা মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেন, যা ওই গরু ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের গোমূত্র সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে তাদের জন্য নিয়মিত কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ তৈরি করা। ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০০ গ্রামীণ নারীকে এই প্রকল্পের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার বা অংশীদার করা হয়েছে। তারা নিজেদের গ্রামে থেকেই গোমূত্র সংগ্রহে সহায়তা করছেন এবং প্রতি লিটার সংগ্রহের বিপরীতে ২ রুপি করে কমিশন পাচ্ছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে।এদিকে সংগৃহীত গোমূত্র বিভিন্ন ভেষজ উপাদানের সঙ্গে মিশ্রিত করে সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত ও প্রাকৃতিক উপায়ে তরল জৈব সার এবং কীটনাশক তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষি কমিটির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে, যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি এই প্রকল্পকে একটি ‘কেলেঙ্কারি’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে। দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই ধরণের প্রকল্প সাজানো হয়েছে। আর ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই সমালোচনার জবাবে বলেছে, বিরোধীরা সবসময় সরকারের উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কাজের মধ্যে খুঁত খোঁজার চেষ্টা করে।বিজেপির মুখপাত্র হিরো বাজপাই দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ খামারিরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন, যা সমাজবাদী পার্টির সহ্য হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরপ্রদেশে গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং কঠোর আইন পাস করে। এর ফলে বয়স্ক, অসুস্থ বা দুধ দেওয়া বন্ধ করা গরু কেনাবেচার বাজার পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পশুপালকরা অর্থনৈতিক বোঝা টানতে না পেরে লাখ লাখ গরুকে রাস্তাঘাটে বা বনে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এতে এই ক্ষুধার্ত পরিত্যক্ত গরুগুলো কৃষকদের ক্ষেতের ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট করছে। এছাড়া, লোকালয়ে মানুষের ওপর গরুর আক্রমণের ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে বহু মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।
১ মাস ২৭ দিন আগে
সাকিব আল হাসানের নামে ঝুলছে একাধিক মামলা। তিনি দেশে ফিরে এসব মামলা লড়তে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন রয়টার্সকে। তবে দেশে ফেরার আগে সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তবে আমি আনন্দের সাথেই দেশে ফিরতে, আদালতে মামলার মুখোমুখি হতে এবং যা কিছু করা দরকার তা করতে প্রস্তুত। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের পতন এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলেও ব্রাত্য হয়ে আছেন সাবেক এই এক নম্বর অলরাউন্ডার। কয়েকবার তাকে দেশে এবং দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। সাকিবও বেশ কয়েকবারই দেশে ফিরতে চেয়েছেন, ঘরের মাটিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।দেশে ফেরার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে সাকিব রয়টার্সকে জানান, আমাকে নিশ্চিত করার পর বিমানে উঠেছিলাম, কিন্তু ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কী পরিবর্তন হলো জানি না! মাঝপথে দুবাইয়ে নামার পর আমাকে দেশে ফিরতে বারন করা হয়। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।নিজের নামে থাকা হত্যা মামলার বিষয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে সাকিব বলেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর একটি মামলা। আমি গত ১০ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ করদাতা, সব কর ঠিকমতো পরিশোধ করেছি, অথচ তদন্তের নামে দেড় বছর ধরে আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্তে কিছু না পেলে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত। এদিকে গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণমাধ্যমে সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাকিবও। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনা বা দল থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে সাকিব রয়টার্সকে বলেন, ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনা) যা বলবেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।
২ মাস ২ দিন আগে
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি-কে নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। বর্তমানে তিনি সৌদি নৌবাহিনীর ‘প্ল্যানিং, বাজেট অ্যান্ড ফোর্স ডেভেলপমেন্ট’ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও কৌশলগত পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বহুজাতিক সামরিক সহযোগিতা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং সামরিক ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ ব্যবস্থায় বিশেষভাবে পারদর্শী।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে।এতে বলা হয়, প্রধান কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখভাল, সদস্যরাষ্ট্রগুলো ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ-সমন্বয় এবং জোটের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আগামী ১২-১৩ আগস্ট জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর মধ্যে একটি পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে এবং নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।এর আগে গত ৩০ জুলাই রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠকের পর এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। জোটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। এই জোটের লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি সরবরাহ লাইন সুরক্ষিত করা এবং অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা।জোটের স্বাক্ষরকারী ১৪টি দেশ—বাংলাদেশ, বাহরাইন, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন। সৌদি আরব এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে এর স্থায়ী সদর দফতর বা প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করবে।মূলত ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং লোহিত সাগরে সৌদি তেল ট্যাঙ্কার ও দেশটির ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলার পর এই জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।এদিকে বাংলাদেশের ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে মোট রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য এই লোহিত সাগর ও এর সংলগ্ন সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
২ মাস ২ দিন আগে
জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের অনেক গ্রাহকও অভিযোগ করছেন, আগের মাসের তুলনায় তাদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কারও বিল দ্বিগুণ, কারও তিনগুণ, আবার কোথাও পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি এসেছে।সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে ক্ষোভ জানাচ্ছেন অসংখ্য গ্রাহক। কেউ দাবি করেছেন, পুরো মাস বাড়িতে না থাকলেও আগের তুলনায় বেশি বিল এসেছে। আবার কেউ বলছেন, আগে যেখানে মাসে দুই হাজার টাকার কম বিল দিতেন, এবার সেখানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। তবে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টিকে অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যতগুলো অভিযোগ জমা পড়েছিল, তা বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো যৌথভাবে সমাধান করেছে। এরপরও যদি কোনো গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ কাছের অফিসে আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে। লিখিত আবেদন পেলে দ্রুততম সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।গ্রাহকদের অভিমতচট্টগ্রাম পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলামের মতে, তার পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহার গত কয়েক মাসে তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রতি মাসে তার বিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু জুন মাসে তার বিল আসে প্রায় ৬ হাজার টাকা। হঠাৎ চার গুণের বেশি বিল দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেন। তার প্রশ্ন, ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও বিল এত বেড়ে গেল কীভাবে?একই ধরনের অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা। তাদের দাবি, জুন-জুলাই মাসে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যায়নি। তারপরও আগের মাসের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল এসেছে। তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকলে ব্যবহারও কম হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে এত বেশি বিলের যৌক্তিকতা তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।শুধু পোস্টপেইড নয়, প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের মধ্যেও একই ধরনের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকার অনেক গ্রাহক বলছেন, আগে যে পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে প্রায় এক মাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেত, এখন একই পরিমাণ টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মিটার পরীক্ষা করিয়েও তারা স্পষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মতোই থাকলেও রিচার্জের টাকা অস্বাভাবিক দ্রুত কেটে যাচ্ছে।পাভেল বড়ুয়া নামে একজন বলেন, ১ হাজার টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ পেলাম ৭০৮ টাকার। মানে ২৯২ টাকা নাই। এর মধ্যে ডিমান্ড চার্জ ১৬৮, ভ্যাট ৪৭। কারা জানি বলেছিলেন মিটার ভাড়া নেবে না সরকার! আমার তো নিল ৮০ টাকা। এভাবে ১ হাজারে ৭০০ টাকা মানে ৩০০ টাকা নাই হয়ে যাওয়াকে সাগর-চুরি বলে মনে করি আমি।এ ধরনের অভিযোগ শুধু একজন বা দুটি এলাকার নয়। নগরীর পাহাড়তলী, পতেঙ্গা, গোসাইলডাঙ্গ, ফিরিঙ্গিবাজার, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাম ফরিদের পাড়া, কাপাসগোলা, বাকলিয়া, চাক্তাই, সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক গ্রাহকের দাবি, দিনের বড় অংশ লোডশেডিংয়ে কাটলেও তাদের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে।এসব অভিযোগে স্পষ্ট, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। তাই বিষয়টি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।পোস্টপেইড গ্রাহকদের অভিযোগ, কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল হয়েছে, কোথাও অনুমাননির্ভর বিল করা হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে সমন্বয় করায় বিল হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেক গ্রাহক বিল হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করছেন।বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যাঅস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের পর বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জুন মাসে তীব্র গরমের কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বিশেষ করে এসি, ফ্রিজ, পাখা ও কুলারের ব্যবহার বাড়ায় অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ খরচও আগের তুলনায় বেশি হয়েছে। তাছাড়া ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মিটার রিডিং নেওয়া হয়। ফলে জুন মাসের বিলে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহার যুক্ত হয়েছে। এ কারণেও অনেকের বিল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এসেছে। একই কারণে জুলাই মাসের বিলেও কিছু ক্ষেত্রে এমন প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।এ ছাড়া কোথাও কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল, বিল তৈরির ত্রুটি কিংবা একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে সমন্বয় করার কারণেও অস্বাভাবিক বিল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।সন্তুষ্ট নন গ্রাহকরা, ছুড়ছেন প্রশ্নতবে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক গ্রাহকরা। তাদের প্রশ্ন, গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা বাড়লেও কীভাবে বিল দুই, তিন কিংবা পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে?অনেকের অভিযোগ, দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ের কারণে এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারই করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যবহারের যুক্তি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদেরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও রিচার্জের টাকা অস্বাভাবিক দ্রুত কেটে যাচ্ছে।নাগরিক সমাজের উদ্বেগজুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ার পরই জুলাই মাসে অনেক গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকের দাবি, আগের তুলনায় বিল দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিল বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। মিটার রিডিং, বিলিং সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।সংগঠনটি অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, বিল পুনর্মূল্যায়ন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত বিলে জরিমানা বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে বিলিং ব্যবস্থার নিয়মিত প্রযুক্তিগত নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের বিলের কপি, মিটারের রিডিং ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, শুধু তীব্র গরম বা অতিরিক্ত কয়েক দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহার দিয়ে এত বড় বিলের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা যায় না। কোথাও মিটার রিডিংয়ে ত্রুটি, কোথাও বিলিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কিংবা প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।বাড়তি বিলের ক্ষোভের মধ্যেও লোডশেডিংবিদ্যুৎ বাড়তি বিল নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যেতে শুরু করেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬২টি কোনো না কোনোভাবে জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ২৬টি, তরল জ্বালানিভিত্তিক ৩৩টি এবং কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর থেকেই দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি শুরু হয়। টার্মিনালটির কার্যক্রম আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এক ধাক্কায় ১৭ শতাংশের বেশি কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।এর আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন গড়ে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ২১০ কোটি ঘনফুটে। অথচ দেশের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে বিদ্যুৎ খাত। আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে ৬৮ থেকে ৭০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দেড় হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি কমেছে।গত সপ্তাহে গড় উৎপাদন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮২ মেগাওয়াট, যা আগের সপ্তাহে ছিল মাত্র ৩২০ মেগাওয়াট। ১ আগস্ট ঘাটতি বেড়ে ২ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াটে পৌঁছে যায়। রোববার গভীর রাতে একপর্যায়ে ঘাটতি প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটে ওঠে। দিনের বেলাতেও অনেক সময় ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে।ভোগান্তি বেশি গ্রামাঞ্চলেলোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার এক বা দুই ঘণ্টা লোডশেডিং এখন অনেক এলাকার নিত্যদিনের ঘটনা।রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি চালকলের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, একদিনে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কার্যত বন্ধ ছিল। আগে দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং কোনোভাবে সামলানো যেত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।কৃষি খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। সাতকানিয়ার মাছচাষি রহমত উল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালাতে টানা তিন রাত লেগেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় গ্রিডে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ, অতপর লোডশেডিংমাতারবাড়ী ও বাঁশখালী এসএস পাওয়ারের মতো মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা স্থানীয় চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু বিদ্যুৎ পাঠানো হচ্ছে পুরো দেশের জাতীয় গ্রিডে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ-সংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এই চিত্র উঠে এসেছে। সর্বশেষ সোমবার দুপুর ১টার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ ছিল ৯০০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২০০ মেগাওয়াট। কাগজে-কলমে ২০০ মেগাওয়াটের লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র এর চেয়ে খারাপ। রেশনিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। টানা এক-দুই ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না জেলার কোনো এলাকায়।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে।’ সরবরাহ কেন কম সেটি তিনি জানেন না বলে জানান।চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল ভিত্তি এখন দুটি বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র। বাঁশখালীর এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১ ও ২ আগস্ট টানা ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে জাতীয় ও স্থানীয় গ্রিডে। মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০ জুলাই সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদিত হয়। যদিও ৩১ জুলাই সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটিতে তা কমে ৭৯০ মেগাওয়াটে নামে। এ ছাড়া গ্যাসভিত্তিক শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি নিয়মিত ২০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন বজায় রেখেছে।বিপরীতে সরকারি পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভিন্ন চিত্র মিলেছে। চট্টগ্রাম শহরঘেঁষা রাউজান ১ ও ২ নম্বর ইউনিট (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্ধ ছিল সিইপিজেডের ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টও। কক্সবাজারের বায়ু ও টেকনাফ-কাপ্তাইয়ের সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনেও ধারাবাহিকতা নেই। ৩০ জুলাই বেলা ১১টায় কক্সবাজার বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিললেও পরদিন একই সময়ে সেখান থেকে উৎপাদন নেমে আসে শূন্যে। কাপ্তাই, টেকনাফ ও কেইপিজেডের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রাতে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। আর মেঘলা দিনেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না বলে তথ্যে উঠে এসেছে।লোডশেডিংয়ের এই বাস্তবতায় দুর্বিষহ দিন কাটছে নগরবাসীর। চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, সকালে খাবার তৈরি করতে রান্নাঘরে ঢুকে দেখি গ্যাস নেই। ভাবলাম কিছুক্ষণ শুয়ে থাকি। বেডরুমে গিয়ে দেখি বিদ্যুৎ নেই। এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি।হালিশহরের বাসিন্দা সুরাইয়া জান্নাত বলেন, রবিবার রাত ১টা ৩৫ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়। এক ঘণ্টা পর আসে। আবার ভোরে চলে যায়। আসে সকালের দিকে। রাতে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে বাচ্চারা গরমে ছটফট করতে থাকে।’ নগরের রাজাপুকুর লেনের বাসিন্দা পুতুল দাশগুপ্ত বলেছেন, তাদের বাসায় রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে ভোররাতে।’বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের বিদ্যমান উৎপাদন দিয়েই স্থানীয় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব। তবে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডের বণ্টন-নীতির কারণে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম থেকে টেনে নিয়ে রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকার ঘাটতি মেটানো হচ্ছে। অথচ গ্যাস সরবরাহের বেলায় চট্টগ্রাম পুরোপুরি বঞ্চিত। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দেশের কোন কুপ থেকে আসে না, সম্পূর্ণ আমদানিকৃত তরল এলএনজির উপর নির্ভর। তদন্তের নির্দেশ সরকারের বিতর্ক বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ দেশের সব বিতরণ কোম্পানিকে দ্রুত অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব গ্রাহকের বিল ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো পুনরায় যাচাই করতে হবে। তদন্তে ভুল প্রমাণিত হলে সংশোধিত বিল দিতে হবে।এ জন্য প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসে আলাদা অভিযোগ গ্রহণ সেল চালু করা হয়েছে। গ্রাহকরা বিল, মিটারের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে সেখানে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনে মিটার পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, জুন মাসের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম, অবহেলা বা অসাধু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইকবাল মাহমুদ বলেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত কারণ কী, সেটি তদন্ত করেই নিশ্চিত হওয়া হবে। কোনো গ্রাহক যেন অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
২ মাস ৬ দিন আগে
গ্যাস–সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার পর এবার মিয়ানমারের দ্বারস্থ হলো বাংলাদেশ সরকার। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহী। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আকারেও বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন।সাক্ষাৎকালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় আনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ সময় দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদারে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ করিডোর বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকারের আন্তরিক আগ্রহের কথাও জানান তিনি। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।
২ মাস ৭ দিন আগে
আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা x বাণিজ্যি সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।বুহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠকের পর এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। জোটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ ।জোটের স্বাক্ষরকারী ১৪টি দেশ হল—বাহরাইন, বাংলাদেশ, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন। এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে এর স্থায়ী সদর দফতর বা প্রধান কার্যালয় হচ্ছে সৌদি আরবে।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই জোটের লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি সরবরাহ লাইন সুরক্ষিত করা এবং অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা।মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জোটটি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার রিয়াদে ৫১টি দেশ ও সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং একটি ইইউ প্রতিনিধিদল এতে অংশ নিয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৪টি দেশ তাদের সমর্থন নিশ্চিত করেছে এবং বাকিরা এ বিষয়ে এখনো বিবেচনা করছে।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এটি সম্পূর্ণ একটি আত্মরক্ষামূলক নিরাপত্তা জোট এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এটি গঠন করা হয়নি। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন গত সপ্তাহে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি তেল ট্যাঙ্কার ও দেশটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করে। এর ফলে এই রুটে তীব্র নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন-ইরান অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি মূলত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথটি আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ সৌদি অপরিশোধিত তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, বাব এল-মান্দাব প্রণালি মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১০-১২ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো বিশৃঙ্খলা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এক লাফে বাড়িয়ে দিতে পারে।
২ মাস ৮ দিন আগে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৯৮তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অফিসার ক্যাডেট পদে নিয়োগের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। প্রার্থীকে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অথবা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। তবে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট/সমমান উত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ও লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ন্যূনতম ২টি এ গ্রেড, ৩টি বি গ্রেড ও ১টি সি গ্রেড এবং এ লেভেলে ২টি বিষয়েই ন্যূনতম বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ২০২৬ সালের এইচএসসি/এ লেভেল পরীক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।অন্যান্য যোগ্যতা :-উচ্চতা- পুরুষ: ১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি). নারী: ১.৫৫ মিটার (৫ ফুট ১ ইঞ্চি)ওজন- পুরুষ: ৫৪.০০ কিলোগ্রাম (১২০ পাউন্ড), নারী: ৪৭.০০ কিলোগ্রাম (১০৪ পাউন্ড)বুকের মাপ- পুরুষ: স্বাভাবিক-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) ও প্রসারিত-০.৮১ মিটার (৩২ ইঞ্চি)নারী: স্বাভাবিক-০.৭১ মিটার (২৮ ইঞ্চি) ও প্রসারিত-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি)বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত/অবিবাহিতা (বিপত্নীক/বিধবা/বিবাহ বিচ্ছেদকারী/তালাকপ্রাপ্ত নয়)জাতীয়তা: জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়. চাকরির ধরন: সরকারি, ফুল টাইমদায়িত্বসমূহ :-বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ৩ বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ।বিএমএ-তে সফল প্রশিক্ষণ শেষে 'লেফটেন্যান্ট' পদে কমিশন লাভ।দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং নির্ধারিত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা।সেনাবাহিনীর নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্ব পালন করা।প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষবয়সসীমা: ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স সাড়ে ১৬ থেকে ২১ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৮-২৩ বছর।বেতন: সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ীঅন্যান্য সুবিধা: বিদেশে প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা, উচ্চশিক্ষা সুবিধা এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুব্যবস্থা।কর্মস্থল: বাংলাদেশ ও বিদেশে (প্রয়োজন অনুযায়ী)আবেদন যেভাবে: অনলাইন, আবেদন ফি: ১,০০০ টাকাআবেদন শুরু: ২৬ জুলাই ২০২৬, আবেদনের সময়সীমা: ১৭ অক্টোবর ২০২৬নির্দেশনা :- প্রাথমিক নির্বাচনী (স্বাস্থ্য ও মৌখিক) পরীক্ষা আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ হতে ১২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হবে।লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৭ নভেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বর ২০২৬ মাসের ২য় সপ্তাহে।আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
২ মাস ৯ দিন আগে
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রাজস্বখাতভুক্ত ‘শিক্ষানবিশ এসবিএ-এ’ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১৫তম গ্রেডে মোট ৫৮৭ জনকে অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি (বিজ্ঞান) বা সমমান (বিজ্ঞান) পাস হতে হবে। কোনো পরীক্ষাতেই তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না।শারীরিক যোগ্যতা: সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। কঠোর পরিশ্রমে সক্ষম এবং বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ওঠানামা করার শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে।বয়সসীমা: ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর হতে হবে।আবেদন অনলাইনে করতে হবে, আবেদন ফি: ১১২ টাকাআবেদন শুরু: ৩ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টাআবেদনের সময়সীমা: ২৩ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৫টানির্বাচিতরা এক বছরের জন্য শিক্ষানবিশ এসবিএ-এ হিসেবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণকালীন নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণ শেষে এসবিএ-এর শূন্য পদে মেধার ভিত্তিতে এবং প্রচলিত নিয়মে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে। তবে পদ খালি না থাকলে প্রশিক্ষণ শেষে শুধু সনদপত্র প্রদান করা হবে।এছাড়া ভবিষ্যতে এসবিএ-এর পদ শূন্য হলে মেধা ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে।আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
২ মাস ৯ দিন আগে
বাধা-বিপত্তি মাড়িয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশের যুবকের হাত ধরে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ভ্লগার রুবিনা মারুফ। বিয়ের খবর আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। এবার জানালেন বিয়ের কারণ। আর এতে প্রশ্ন উঠেছে ভ্লগারের বিয়েতে...বাড়ল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক। এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন স্বয়ং পাকিস্তানি ভ্লগার রুবিনা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি লিখেছেন ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দূরত্ব। এর আগে এক পোস্টে তিনি লেখেন, আমি একজন বাংলাদেশি পুরুষকে বিয়ে করেছি। প্রথমবার বাংলাদেশে যাওয়ার সময় মা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিলেন, সেখানে যেন মারা না যাই বা বিয়ে না করি। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা আমাদের পরিকল্পনার চেয়ে বড়। তিনি জানতেন, আমি বাংলাদেশকে কতটা ভালোবাসি। নিজের শিকড়ের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে যুক্ত অনুভব করি।তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বরণ করে নেওয়ার জন্য বিয়ের দিন শাড়ি পরেছিলাম। পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে কাছাকাছি আনার আনন্দ প্রকাশ করতে এই পোশাক পরেছি। মা আমাদের বিয়ে নিয়ে খুব খুশি। বাবা আবেগাপ্লুত হলেও আনন্দিত। খুব শিগগিরই বাবা-মাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।রুবিনা মারুফ জানান, তার স্বামীর নাম রকিবুল হাসান। বাংলাদেশের রংপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কর্মরত। তাঁদের লাহোরে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে তাঁদের বিয়ের খবর ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে রুবিনা মারুফ লিখেছিলেন, একজন বাংলাদেশিকে বিয়ে করলাম। পুরো বিষয়টা সহজ ছিল না। তবে আমার জীবনের পথ যেদিকে যাওয়ার কথা ছিল তা মেনে নেওয়ায় এমন এক আনন্দ দিয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।তিনি আরও লিখেছিলেন, নিকাহর দিনে বাবা-মায়ের মুখে গর্ব ও আনন্দের হাসি দেখতে পাওয়াটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় আশ্বাস। সীমান্ত পেরিয়ে এই ভালোবাসা, নতুন সূচনা এবং একজন বাংলাদেশি জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আমার হৃদয় আজ পরিপূর্ণ, আমার বাবা-মা অত্যন্ত আনন্দিত এবং জীবনের বাকি সময় নিয়ে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।
২ মাস ৯ দিন আগে