ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেছেন, হাদির দুই হত্যাকারীকে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতারের পর তাকে ফোন করেন অমিত শাহ। এ সময় এই গ্রেফতারের বিষয়টি চেপে যেতে বলেছিলেন তিনি।
ভারতীয় মিডিয়া 'দি টেলিগ্রাফ ইনডিয়া' বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক রিপোর্টে বলেছে, মমতার এ মন্তব্য বাংলাদেশের অন্যতম স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে। আর এমন সময় বিষয়টি সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশ-ভারত আবারো নিজেদের মধ্যে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।
গত ২ জুন কলকাতার এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার করা মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সবার নজরে চলে আসে। কারণ মমতার বক্তব্য বোঝাচ্ছে, হাদির হত্যাকারীদের ব্যাপারে ভারত তথ্য জানত। কিন্তু তারা সবকিছু লুকিয়ে রেখেছে।
হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতা যে অভিযোগ করেছেন, তারপর বেশ কিছু প্রশ্ন এখন উঠেছে। টেলিগ্রাফ ইনডিয়া বলেছে, মমতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওঠা প্রশ্নগুলো এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যদি তার অভিযোগটি সত্যি হয়, তাহলে প্রমাণ হবে ইনডিয়া হাদি হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানত।
কিন্তু যদি তার তার অভিযোগটি অসত্য হয়, তাহলে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আরো বেশি রাজনীতিকরণ হবে, যা এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ইসুতে পরিণত হয়েছে। মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যের পর অমিত শাহ এবং ভারত সরকার এখন পর্যন্ত পাল্টা মন্তব্য করেনি।
টেলিগ্রাফ ইনডিয়া বলেছে, এমন সময় এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলো যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বলেছে তারা নিজেদের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে চায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক রাখতে চায়।
এ সবের মধ্যে মমতার মন্তব্য যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তা দুই দেশের কেউই চাইবেনা। ভারতের রাজনীতিবিদরা হাদির হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানেন, এমন যে কোনো কথা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ আরো তীব্র করবে। কারণ অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করে ভারত।
মিডিয়াটি বলেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে মমতার বক্তব্যে যেন উত্তেজনা আর না বাড়ে। এ কারণে পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে সাবেক মুখ্য মন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ
ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মন্তব্যের জেরে এবার রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ জামিন অযোগ্য ধারায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলো পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং।
অভিযোগকারীর দাবি, মমতা ব্যানার্জি ইলেকশন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে ঘৃণা তৈরির অপচেষ্টা করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে জড়িয়ে তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের (বাংলাদেশ) সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। এই মন্তব্য দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই মমতার বিরুদ্ধে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র (বিএনএস) ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ),১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩-সহ একাধিক ধারায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র ১৫২ ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব, একতা এবং অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী বা ক্ষুন্নকারী কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
১৫৩ ধারা অনুযায়ী, ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তিতে থাকা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা, যুদ্ধ করার চেষ্টা করা বা যুদ্ধে সহায়তা করা একটি গুরুতর অপরাধ।
আইনজীবী রিংক চ্যাটার্জি সিং জানান, অবিলম্বে মমতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। ৮ জুন হাই কোর্ট খুললেই সাবেক মুখ্য মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবিতে মামলা করবেন।
প্রসঙ্গত, বিধান সভার নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর গত মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মমতা। তাঁর দাবি, হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ফোন পান তিনি। তাকে বলা হয়, এই বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।
মমতা বলেছিলেন, 'বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো, ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।'
এরপরই অমিত শাহ-এর উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার। তথ্য ভাণ্ডার।' মমতা বলেন, 'কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলবনা।'
টানাপোড়েন শুরু হয় শেখ হাসিনার পতন থেকে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সীমিত থাকছে না দুই প্রতিবেশী দেশ। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে একে অন্যের কূটনৈতিক মিশন ঘেরাও করছে। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আস্থার সংকট এবারই প্রথম নয়। তবে এবার অনেক বেশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেকটা স্বাভাবিকতার মাত্রা ছাড়িয়েছে। ফলে নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে ঢাকা ও দিল্লি। উভয় দেশের কূটনীতিকরা দ্রুত অবনতিশীল সম্পর্কে উদ্বিগ্ন।
সম্প্রতি ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশন ঘেরাও করেছে একটি গ্রুপ। তার জবাবে উগ্র হিন্দুদের একটি গ্রুপ দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন ঘেরাও করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ভারতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চেয়েছে। জবাবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনীতিক ও মিশনের নিরাপত্তায় উদ্বেগ জানানো হয়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে কথার পাল্টাপাল্লি চলছেই।
তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য তথা সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের কেউ নন। তার বক্তব্য মোটেও সরকারের বক্তব্য হতে পারে না।
শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ভারতীয় নেতাদের সম্পর্ক নিবিড় ছিল। এমন অভিযোগও উঠেছে যে, ভারতের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ওই সময়ে বাংলাদেশে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে প্রতিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অধিকাংশ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়া, দিনের ভোট রাতে হওয়ার ঘটনায় ভারত টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি। বরং তারা ওই সব খারাপ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে। এসব কারণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব বিস্তৃত হয়। অভিযোগ ওঠে, বাংলাদেশের সঙ্গে নয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক করছে ভারত। ফলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় নতুন সেøাগান ওঠে, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’। সেই ভারতবিরোধিতার ঢেউ এখনো চলছে। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে দেখা দিয়েছে ছন্দঃপতন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি অভিন্ন স্থল সীমান্ত রয়েছে। সমুদ্র সীমান্ত আছে। অভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত শরণার্থীদের আশ্রয় এবং মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যেক সময়ে সহায়তা করেছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারতের জনগণের সহায়তার কারণে এ দেশে একটি ভাবাবেগের সৃষ্টি হয়েছিল। গোটা বাংলাদেশের জনগণ ভারতের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল। দিনের পর দিন সেই আবেগে চির ধরে। অনেকে মনে করেন, দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় বন্ধনে ভারতের বড় ভাই সুলভ আচরণ যা ‘দাদাগিরি’ নামে অধিক পরিচিত, ক্ষতির কারণ হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শেখ হাসিনার অতিমাত্রায় ভারতপ্রীতি। অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষের ভারত বিরোধিতার সুযোগে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে দিল্লিবিরোধী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধের পরপরই বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন জে এন দিক্ষিত। তিনি পরবর্তী সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হয়েছিলেন। তিনি তার এক বইয়ে লিখেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইতেন। কিন্তু তিনি এটাও চাইতেন যে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠুক। সেটা ভারতের পছন্দ ছিল না। শেখ মুজিব বাংলাদেশ থেকে দ্রুত ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের স্বীকৃতি আদায়ের শর্তে সম্পর্ক স্থাপন এবং করাচিতে ওআইসির সম্মেলনে যোগ দেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। বিশেষ করে জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গড়ার উদ্যোগ নেন, যা বাংলাদেশের কূটনীতির শ্রেষ্ঠতম উদ্ভাবন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এই ধারাবাহিক প্রবণতা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদেও অনেকটা সেই ধারা বজায় ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক বেশি ভারত নির্ভর হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং তার দলের বড় নেতারা ভারতে আশ্রয় নিলে চরম আস্থাহীনতা দেখা দেয়। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে ভারতবিরোধী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলো নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছাকাছি আসার চেষ্টায় লিপ্ত।
অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে ওয়ার্কিং সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মতামত দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রভাব এবং নিরাপত্তা সংকটের দায়ে ভারত মেডিক্যাল ভিসা ছাড়া অন্য সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয়। দিল্লির এমন পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক মারাত্মক বিঘ্নিত করছে। বাংলাদেশে যেসব দেশের দূতাবাস নেই; অনেকে উচ্চশিক্ষা কিংবা অভিবাসনের মতো কাজে তৃতীয় ওই সব দেশের ভিসা ভারতে অবস্থিত দেশগুলোর দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করেন। ওই সব দেশের ভিসা প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। ভিসা না থাকায় দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ।