চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা এককালীন ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত ৪টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য জানান পতেঙ্গায় র্যাব-৭ এর সদর দপ্তরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মাইকেল রোহেন মিয়া প্রকাশ মাইক্যাল (৩১), মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আব্দুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সানজাত হাসান (১৮), সৈকত হোসেন (১৮) ও মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায় হেলমেট ও মাস্ক পরে সন্ত্রাসীরা ইন্টারনেট অফিসের ভেতরে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে অস্ত্রহাতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ছবিতে চিহ্নিত চার প্রধান হামলাকারী হলেন- সরাসরি হামলার মূল সংগঠক ও সমন্বয়কারী রোহেন প্রকাশ মাইকেল, সিসিটিভি ফুটেজে বাইরে মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাকআপে থাকা সন্ত্রাসী মো. তুহিন, অফিসের ভেতরে প্রথম প্রবেশকারী ও মূল ভাঙচুরকারী সাইফুদ্দিন ও অফিসের লবিতে ভাঙচুরকারী মো. আকবর।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চকবাজার থানা ও ডিবি পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে ঘটনায় জড়িত ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ৩০-৪০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী জড়িত বলে জানান ডিডিএন মালিকপক্ষ।
মালিকপক্ষের মতে, গত ১১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় অবস্থিত ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীকে ডেবিড ইমন পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা বাকলিয়া অ্যাক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএন-এর অফিসে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল অতর্কিত হামলা চালায়।
অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে ক¤িপউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা ছিল। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এর পর গত ১৫ জুলাই নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে চার থেকে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। তবে হামলার মুল হোতা ডেভিড ইমন কোথায় আছে পুলিশ জানে না বলে জানান।