ইরানে টানা বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরাকের সীমান্তবর্তী শালামচেহ ক্রসিংয়ের কাছে অন্তত দু‘জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার বদলা হিসেবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বুশেহরে মার্কিন হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এ এলাকায় থাকায় এটি বেশ স্পর্শকাতর। প্রদেশটির গভর্নর জানিয়েছেন, শহরে থাকা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজগান প্রদেশে সিরিক এবং জাস্কেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই শহরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের জন্য এখান থেকেই ইরান জলপথটিতে নজর রাখে।
হরমোজগানের উপকূলে মার্কিন হামলায় নৌবাহিনীর দুটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়েছে, ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকা শালামচেহর একটি যাত্রীবাহী স্টেশনের কাছে। বিস্ফোরণের কারণে ফলে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। নতুন করে চালানো মার্কিন হামলায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফার হামলা শুরু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরের বিবৃতিতে সেন্টকম নতুন দফার হামলা শেষ করার কথা জানায়। এতে বলা হয়, বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও কমানোর জন্য আরেক দফা হামলা সম্পন্ন করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ দফায় তাদের বাহিনী সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়টি সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলের সময় সৌদি মালিকানাধীন জাহাজ ‘এনসিলিয়া’ হামলার শিকার হয়েছে। জেনারেল ট্রান্সপোর্ট অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন লেগে যায়।
সূত্রটি জানিয়েছে, জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এর আগে লোহিত সাগরে এনসেলিয়াসহ দুটি জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্য জাহাজটির নাম ‘লায়লা।’
আজ ভোরে আইআরজিসি দাবি করেছে, ওমানের উপকূল দিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টার পর হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে গেছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বিস্ফোরণের পর আরও দুটি জাহাজ দ্রুত ফিরে গেছে।
আইআরজিসির ভাষ্য, জাহাজ তিনটি মার্কিন নির্দেশে কাজ করছিল এবং হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা পথ দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সংস্থাটির নৌবাহিনী জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যতদিন এই অঞ্চলে আমেরিকার ‘অপকর্ম’ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এতে কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।
ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ১.৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৪৪ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.২৭ ডলারে লেনদেন শুরু হয়েছে।