বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে।
পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত।
কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।
তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।
এর আগে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের গ্যারান্টি দেই, যেখানে তারা পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।
নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি ওয়াদা ছিল যে আমরা সরকার গঠন করতে পারলে দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানো এবং সেই অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য করার জন্য আপনারা উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
আমাদের প্রত্যাশা এই যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে স্বস্ত্রীক কক্সবাজারে পৌঁছান। সেখানে তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা পাতলীখাল পুনঃখননকাজ উদ্বোধন করেন।
এরপর তিনি পাশেই একটি পথসভায় যোগ দেন। পথসভায় দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ৬০টি পণ্যের কর বাতিল করায় অন্যবারের মতো এবার বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। দেশকে অস্থিতিশীল করে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তারাই মূলত এই গণমুখী বাজেটের সমালোচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, এই দেশই বিএনপির শেষ ঠিকানা, তাই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।