বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত) সিআরবি, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা কমিটির ২০২৫ সালের নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ না করায় তা বাতিল ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমবায় দপ্তর।
গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপ-নিবন্ধক (বিচার) জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা স্বাক্ষরিত আপীল নং-০৯/২০২৬-এর রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সমবায় অফিসার, চট্টগ্রামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার রায়ে বলা হয়, নির্বাচন কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে সমবায় সমিতি বিধিমালার ২৭ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়া ৭ অক্টোবরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও একই কমিটি ১৫ অক্টোবর নির্বাচন পরিচালনা করেছে, যা আইনগতভাবে বৈধ নয়।
আপীলাত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমবায় সমিতি বিধিমালার ১৪(৩) বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা প্রস্তুত, মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি, একই সদস্যের নাম একাধিকবার রাখা এবং খসড়া ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ না করায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিশও বিধিমালায় নির্ধারিত একাধিক পদ্ধতির পরিবর্তে শুধুমাত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিধিমালার বাধ্যতামূলক বিধান অনুসরণ করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ বিবাদীপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।
সব দিক বিবেচনায় আপীলাত কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন যে, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত), সিআরবি, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী যথাযথ ও আইনানুগ হয়নি। ফলে নির্বাচনটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রায়ের দ্বিতীয় অংশে জেলা সমবায় অফিসার, চট্টগ্রামকে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নিষ্পত্তি হলো এবং এখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
মামলার নথি অনুযায়ী, পরিচালক প্রার্থী ও সমিতির সদস্য আবুল কালাম ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা সমবায় অফিসারের কাছে এই মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না করে পরে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন আয়োজন করা হয়।
এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করা, একই সদস্যের নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় রাখা, খসড়া ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ না করা এবং নির্বাচন তফসিল ও নোটিশ জারিতে বিধিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
এর আগে জেলা সমবায় অফিসার ও আরবিট্রেটর বিরোধ মামলা নং-১৪/২০২৫ খারিজ করে দেন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ, ১ম আদালতে নির্বাচনী মামলা নং-০১/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন ছিল। তবে পরবর্তীতে ওই মামলাটি ১ এপৃল ২০২৬ তারিখে বাদীপক্ষের তদ্বিরের অভাবে খারিজ হয়ে যায়।