
ছিলেন ছাত্র, হলেন শহীদ। মহান এই আত্নদানে বলীয়ান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম। মরেও তিনি প্রমাণ করলেন শোষণ বিরোধী আত্নদান কখনো বৃথা যায় না। বরং অনেক সম্মানের। বীরোচিত এই ছাত্রের আত্নবলীদান মুহুর্তে মুহুর্তে স্মরণ করছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ।২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেলা ৩ টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছোড়া গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ তিনিই। যার প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রাম মহানগরীর পরতে পরতে সাইনবোর্ড-ব্যানারে ঝুলছে সেই থেকে।সেই শোকাবহ ঘটনার দু‘বছর পূর্ণ হল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসী ভুলেনি শহীদ ওয়াসিম আকরামকে। দলীয় নেতাকর্মী ও চট্টগ্রামবাসীর পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত ১২ জুন সশরীরে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার গিয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেন।স্থানীয়দের তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার প্রবাসী শফিউল আলমের মেঝ ছেলে ওয়াসিম আকরাম। সর্বশেষ ছাত্র ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের। পড়তেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে। সেই সুবাধে চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকতেন ওয়াসিম। জড়িত ছিলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতিতে।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যখন বিরোধী দল দমনপীড়নে খড়গহস্ত, ঠিক এই অসময়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। আর ক্ষণে ক্ষণে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের মারধর, হামলা-মামলা ও গুলির মুখে পড়েছেন ওয়াসিম আকরাম।এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশে চাঙা হয়ে উঠে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। ঢাকার ছাত্র জনতার সাথে চট্টগ্রামেও এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেন ছাত্ররা। তাদের সর্বাগ্রে থেকে নেতৃত্ব দেন শহীদ ওয়াসিম আকরাম।মধ্য জুলাইয়ে আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংস হয়ে উঠে। তখন পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে। এতে দমে যাননি স্বৈরাচারবিরোধী অকুতোভয় বীর সেনানী ওয়াসিম আকরাম। বরং অন্য সহযোদ্ধাদের মতোই আরো বেশি সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন।ওয়াসিমের সহপাঠি ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলামের মতে, ১৬ জুলাই দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। দুই নম্বর গেট এলাকায় একটি বাস ভাংচুর করে তারা। বিকেল ৩টা থেকে নগরীর মুরাদপুর, ২নং গেট ও ষোলশহরের আশপাশের এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষের শুরুতে লাঠিপেটা করা হলেও, পরে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সাথে সাদা পোষাকে হেলমেট পড়ে কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। বেশ কিছু ককটেলও বিস্ফোরিত হয়। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পরে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এভাবে অনেক্ষণ চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অনেকে অলিগলিতে ঢুকে পড়লে সেখানেও খুঁজে বের করে হামলা করা হয়। সেদিন গুলিবিদ্ধ হন শহীদ ওয়াসিম আকরাম। বাচানোর আশায় সহপাঠিরা যে তাকে হাসপাতালে নিবে সে সুযোগও সেদিন অবরুদ্ধ করে পুলিশ ও অস্ত্রধারী ছাত্রীগ-য়ুবলীগ নেতাকর্মীরা। রাত প্রায় ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ নিয়ে ওয়াসিম আকরামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিসৎকরা।সেদিনের কথা বলতে গিয়ে চোখে একরাশ ক্ষোভ আর হতাশার কান্না নিয়ে সহপাঠী ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর আগের দিন ওয়াসিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়। পোস্টটিতে সে লিখেছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আছে আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এই পরিচয়েই শহীদ হবো। আর এর ঠিক ১৬ ঘণ্টা পরই শহীদ হলেন ওয়াসিম আকরাম। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ এটি।১৭ জুলাই সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার ওয়াসিমের জানাজা হয়। এরপরই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।আক্ষেপ কাটেনি প্রবাসী বাবা ও গৃহীনি মায়েরশহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার প্রবাসী। সেখানে তিনি একটি কোম্পানীতে চাকুরি করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছেলের আত্ন বলীদানের কথা শুনলেও দেশের অরাজক পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারেনি। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ফিরেন তিনি।সেই থেকে ছেলের আত্নবলীদান নিয়ে আক্ষেপ বাড়ছে প্রবাসী শফিউল আলমের। অন্যদিকে দেশে থেকেও মনকে কোনভাবে সাত্ননা দিতে পারছেন না মা জ্যোস্না বেগম। কারণ তাদের অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল শহীদ ওয়াসিম আকরামকে নিয়ে।মুঠোফোনে এসব কথা বলেন ওয়াসিম আকরামের চাচা মাওলানা জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর থেকে বাবা শফিউল আলম প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সেখানেই কাটান।মা জ্যোস্না বেগম এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না যে তাঁর সন্তান নেই। প্রতিটি মুহূর্তে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান, চোখের সামনে ভাসে ওয়াসিমের হাসি, তার কণ্ঠস্বর, তার চলাফেরা। আকস্মিক সন্তান হারানোর আঘাত সইতে না পেরে শোকস্তব্ধ ওয়াসিমের মা হারিয়েছেন শ্রবণশক্তি, একবছর ধরে তিনি বিছানায় শয্যাশায়ী।চাচা মাওলানা জয়নাল জানান, পিতামাতার ৫ সন্তানের মাঝে ওয়াসিম ছিলেন দ্বিতীয়। সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বড় ভাই মহিউদ্দিন চাকুরি করে। ছোট আরো এক ভাই ও দুই বোন পড়াশোনা করে। তাদের সবার স্বপ্ন ছিল ওয়াসিম আকরামও পড়ালেখা শেষ করে সরকারি বড় কোন পদে চাকরি করবে। পরিবারের হাল ধরবে।আবেগাপ্লুত চাচা জয়নাল জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে কেউ কল্পনাও করেনি। তাকে হারিয়ে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে আমাদের পরিবারের ওপর। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। সে স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায় ১৬ জুলাই বিকেলের একটি বুলেটে। ওয়াসিমের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কাছে দাবি জানান চাচা জয়নাল।ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, সেটা যে সন্তান হারিয়েছে শুধু সে-ই বুঝবে। মা হারিয়েছি, দুই মাস পর ছেলেকেও হারিয়েছি। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না। ভাই হারানোর যন্ত্রণা আমার অন্য সন্তানদের মধ্যে। কেউ আমাকে ছাড়তে চায় না। বাকি জীবনটা তাদের বুকে আগলে রেখেই কাটিয়ে দিতে চাই।সহপাঠি ও এলাকাবাসীর ভাষ্যওয়াসিম আকরাম কেবল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না, বরং ছিলেন বিনয়ী ও সবার প্রিয়। গ্রামের মানুষরা জানান, তিনি পড়াশোনার ফাঁকে মাঝেমধ্যে গ্রামে যেতেন এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওয়াসিমের পরিবার এখনো শোকসাগরে ভাসছে ওয়াসিমের পরিবার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে এ কথা কেউ কল্পনাও করেনি। তার মৃত্যুতে পরিবারে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তবে সান্তনার বিষয়, সরকার শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের পাশে আছে।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৩ জুন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার এসে শহীদ ওয়াাসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের খোঁজ-খবর নেন। এসময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন সরকারপ্রধান। এতে পেকুয়া উপজেলাবাসী গর্বিত। এতে মনে হচ্ছে শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্নদান বৃথা যায়নি।চট্টগ্রামে সেদিন আরও আত্ন বলীদান ছিল যাদেরজুলাই অভ্যূত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছাড়াও চট্টগ্রামের রণাঙ্গনে সেদিন জীবন বিলিয়ে দেন ছাত্র শিবির নেতা ফয়সাল হোসেন শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। এই তিন প্রাণের বিনিময়ে সেদিন থেকে চট্টগ্রামে আন্দোলন চুড়ান্ত রুপ পায় বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের তৎকালী সমন্বয়কদের অন্যতম মশিউর রহমান।তিনি বলেন, ১৫ জুলাই প্রথম প্রতিরোধের পর ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মেরে ফেলব, কেটে ফেলব-এ ধরনের পোস্ট দিতে শুরু করে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের ছবি তুলে আমাদের ইনবক্সে পাঠাতে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আমরা যাতে ভয় পেয়ে ষোলশহরে আর না যাই। কিন্তু আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ছাত্রলীগ হামলা করতে এলে জোরালোভাবে প্রতিরোধ করা হবে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সেদিন শান্তিপুর্ণ ভাবেই মুরাদপুর মোড় ও রেলগেট এলাকায় অবস্থান করছিলো। বিনা উস্কানিতেই ছাত্রলীগ আমাদের উপর অস্ত্রসহ হামলা চালায়। জবাবে শিক্ষার্থীরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।প্রথম হামলাতে শিক্ষার্থীরা কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে পরেন। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁরা গুছিয়ে উঠে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই সময়গুলি গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘটনা স্থালে হাজির হয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। এ সময় তাদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম, শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। রক্তে লেখা হয় নতুন ইতিহাস।সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, ওয়াসিমের মতো সেদিন শহীদ হওয়ার আগে শিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ শান্ত তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে রিখেছিল- যে হৃদয় শাহাদাতের উচ্চাকাক্সক্ষা লালন করে, সে হৃদয় কখনো হতাশ হয় না। শান্ত নেই, কিন্তু সেই লেখা এখনো রয়ে গেছে।শহীদ শান্তর মা কোহিনূর বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার ছেলে আমার বুকের ধন। আমার ছেলের কষ্ট হবে, এজন্য আমি শত ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে কোনো কাজে হাত দিতে দিতাম না। আমার ছেলেটাকে ছেড়ে আমাকে দু‘টা বছর কাটাতে হল, সারাজীবন কাটাতে হবে, এ দুঃখ আমি কীভাবে সইব!শান্তকে নিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছেন, তিনি সবসময় ওয়াসিমের কথা বলেন শুধু, বাকি দুজনের কথা বলেনই না। এখন দেখছি সরকারের সবাই একই পথে হাঁটছেন। আমি মনে করি, এটা একটা বৈষম্য!সেদিন আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হামলায় শহীদ হন দোকান কর্মচারী ফারুক (৩২)। মুরাদপুরে কর্মস্থলে ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী সীমা আক্তার স্বামীর মৃত্যুতে আজও শোকে স্তব্ধ। তিনি বলেন, আমার স্বামী তো নেই। আমি আমার স্বামীর হত্যা কারীদের ফাঁসি চাই।
২ মাস ৫ দিন আগে
আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, সমাজে বিদআত পরিহার এবং নৈতিক জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেওয়া তার বক্তব্যকে সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে সেফ এক্সিট দেওয়া নিয়ে বিতর্কে পড়েন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এ ঘটনার পর তাকে সেনা প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলায় সেই বিতর্ক কাটিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান গত সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে সেনাপ্রধান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিদআত ছেয়ে গেছে এদেশে। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত। সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ ইসলামিক সমাজ আমরা চাচ্ছি, এই এডুকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। আমি মনে করি এভাবে যদি আমরা এডুকেশন ইন্সটিটিউশগুলোকে গড়ে তুলি, তাহলে আমরা একটা এডুকেশন সিস্টেম পাব, যেভাবে ইসলামিক ভেল্যুসগুলো থাকবে। মর্ডান এডুকেশন থাকবে। যাতে সোসাইটি লাভবান হয়।আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজ যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী ৩০ বছর পর একটি সুস্থ, আদর্শ ও নৈতিক জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। সুলতান মাহমুদ রুপশ নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় সেনাপ্রধান! আপনাকে যত দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি।জাকিরুল আলম মিলন নামে একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দেশের জন্য এরকম দ্বীনদার সেনাপ্রধান একান্ত কাম্য! আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি! শ্রদ্ধেয় সেনাপ্রধানের জ্ঞানগর্ভ, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী আরো উদ্যমে, সুসংগঠিত এবং নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন! মহান আল্লাহ প্রতিটি সেনা সদস্যকে তার খাস বান্দা হিসেবে কবুল করুন!’ইসমাইল টোলিন নামে একজন লিখেছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার কথা একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে শুনতে সবসময়ই ভালো লাগে। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ইসলামের রীতি-নীতি ও নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরার প্রচেষ্টা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এতে তার প্রতি আলাদা একটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দেশের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। মহান আল্লাহ তাকে ন্যায়, সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন।
২ মাস ৫ দিন আগে
কমিশন ছাড়া ফাইল ছাড়েন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশন না পেলে ঠিকাদারদের করেন তুলোধুনো হয়রানি। এমন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তারেক মো, সামছ তুষারের সাফ জবাব, জিএম সব জানে, ওনার সাথে কথা বলুন।এমন কথায় বিস্মিত হয়ে ফের প্রশ্ন করা হয়, আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিবেন? তিনিও ফের উত্তর দেন, হ্যাঁ যা বলবেন জিএমকে বলুন, তিনিই এর জবাব দিবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে কি বলল না বলল, আর আপনি তা লিখে দিবেন? এগুলোর কী প্রমাণ আছে?ঠিকাদারদের অভিযোগ ও একাধিক রেকর্ড থাকার কথা জানালে-এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন ইজিপিতে টেন্ডার হয়, কমিশন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের কথা বলেছে তাকে এখানে নিয়ে আসুন। সেরকম কোন নিয়ম না থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে যান।ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ইজিপি টেন্ডার রেলওয়ের জন্য আইওয়াশ। ইজিপি ছাড়া যেমন কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মও দূর্নীতি হয়েছে। ইজিপিতে তার চেয়ে বেশি অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। বরং এ নিয়ে কোন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাদের ইজিপির দোহাই দিয়ে বাচার চেষ্টা করছেন রেলওয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।ঠিকাদাররা জানান, রেলওয়ের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তরের প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারও অবকাঠামো ও মালামাল ক্রয়ের যে কোন ইজিপি টেন্ডার নানা কলা-কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন। সেই সুত্রে তিনি ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত (টেন্ডার ভেদে) কমিশন হাতিয়ে নেন।টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারও কাজ পেয়ে কমিশন দেন। অন্যথায় টেন্ডারের ব্যপ্তি ও মূল্য নির্ধারণে গড়ি মসি করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশনের বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় টেন্ডারের ব্যস্তি ও মালামাল ক্রয়ে বাজার মুল্য অতিরিক্ত ধরে ঠিকাদারদের সুবিধা দেন।শুধু তাই নয়, টেন্ডার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্তরে স্তরে ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় ঠিকাদারদের। আবার কাজ শেষে টেন্ডারের বিল তৈরী থেকে নিয়ে হিসাব শাখা থেকে বিলের চেক নিতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় কমিশন ও ঘুষ।আর কমিশন ও ঘুষ আদায়ে সব দপ্তরের কর্মকর্তারা একাট্টা। এক্ষেত্রে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যে বড় ভুমিকা রাখে বাজার দর কমিটি। যে কমিটিতে রেলের সব কর্মকর্তারা কোন না কোনভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের এমন সিন্ডিকেটে বন্দি রেলওয়ের কাজে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। এরপরও নানা কারসাজির মাধ্যমে লাভ বের করে আনেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, শুধু ইজিপি নয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারের বিভিন্ন ভুয়া নামে একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স আছে। যেগুলোর কোন আস্তিত্ব নেই। এসব লাইসেন্সের নামে কৌশলে চলে যায় বেশিরভাগ ইজিপি টেন্ডার। তবে এসব কাজে প্রধান সহযোগী হলেন এ দপ্তরের একজন কর্মচারী। যা দুদক বা নিরপেক্ষ কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে মিলবে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।ঠিকাদারদের মতে, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল শাখার অধীনে প্রতি অর্থবছরে শত শত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ হয়। যেখান থেকে তিনি ইজিপি টেন্ডারের নামে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার কিছু কিছু টেন্ডার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সে নিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। যা জানা কষ্ঠসাধ্য।দূর্নীতির এসব টাকায় তিনি নিজ জেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী অনেক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের দপ্তরে গেলে বড় বাবু খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান নির্বিঘ্নে বলে দেন, স্যার তো কথা বলে না। কিছু জানার থাকলে জিএমের সাথে যোগাযোগ করেন।কেন? পরিচয় হতেও আপত্তি আছে নাকি- এমন প্রশ্ন করা হলে জানতে তিনি প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের কাছে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে তারেক মো. সামছ তুষার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারব না, কিছু জাসতে চাইলে আপনারা জিএমের কাছে যান, ওনার সাথে কথা বলুন।আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিয়ে নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ-যা বলবেন জিএমকে বলুন। তিনিই এর জবাব দিবেন। এমনভাবে রূঢ় আচরণ করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো, সুবক্তগীন বলেন, প্রকৌশলী সামছ তুষার যদি অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে লিখেন। সেখানে আমাকে পেছাচ্ছেন কেন? আমি কি সামছ তুষারের খাই, না সামছ তুষার আমার খাই। আপনার অভিরুচির মধ্যে পড়লে আমাকে টানেন।প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার আপনাকে টেনে আনছেন, আমি আনছি না-এমন কথায় তিনি বলেন, ঠিক আছে আপনি কাল (৩ আগস্ট, সোমবার) সকাল ১১টার দিকে আসেন। আমি তাকে ডেকে প্রশ্ন করব, সে আমার কথা বলবে কেন? এ কথা বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।
২ মাস ৭ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিদিন আহতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এ থথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দু‘বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের বহু আহত জুলাই যোদ্ধা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শরীরে বাসা বাঁধা গুলির স্পিøন্টার, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা অঙ্গহানির কারণে প্রতিনিয়ত শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তারা।তিনি বলেন, আন্দোলনে আহত অনেকের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি তদারকি প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন আসা রোগীদের অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাদের উন্নত বা জটিল অস্ত্রোপচার দরকার, তাদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী আহতদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে সরকার। এর মধ্যে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা অতি-গুরুতর এ ক্যাটাগরিতে আছেন ৬ জন। গুরুতর বি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন। কম গুরুতর সি ক্যাটাগরিতে আছেন ৫০৫ জন।দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনে গঠিত এই বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন আহতকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন। বোর্ডে চিকিৎসাধীনদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নির্দেশনা, ওষুধ দেওয়া ছাড়াও অর্থোপেডিক প্লেট অপসারণ এবং জটিল চোখের রোগীদের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
২ মাস ৮ দিন আগে
নির্বাচনের আগে বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, কিন্তু নির্বাচনের পরে কর্মকাণ্ডে ‘সবার আগে বিএনপি’—এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গ্রেডে উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ করেছে জামায়াত।দলটির দাবি, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান আবিরকে মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবকেও ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ৩১ দফার নবম দফায় ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে’ উঠে রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিএনপি বিভিন্ন সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির সদস্য ছিলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।‘বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় এত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’,-বলে মন্তব্য করেন তিনি।সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, এই নিয়োগ বহাল থাকলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিরোধী দলগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি তালিকাও তুলে ধরে জামায়াত।দলটির দাবি, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হককে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেককে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপুকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানকে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের বসানোর মাধ্যমে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে দেখা দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি। নাম পরিবর্তন হলেও, চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠছে।
২ মাস ১১ দিন আগে
তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। এমন একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অবশেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালো দলটি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে ও প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দলীয় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবরের দিকে জামায়াতে ইসলামী গভীরভাবে নজর রাখছে।বিবৃতিতে জামায়াত নেতা বলেন, ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য এবং তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।প্রসঙ্গত, এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াত এমপি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলো সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে জামায়াত এমপিকে একটি কক্ষে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় নিজের মতো ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াত এমপি এবং ওই তরুণী। দুজনেরই দাবি, তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাতে থেমে নেই আলোচনা-সমালোচনা। তাদের দাবিকৃত দ্বিতীয় বিয়ে নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের তারিখের সঙ্গে একটি বায়োডাটায় উল্লিখিত বৈবাহিক অবস্থার অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ওই এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জামায়াতকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে একটি টেবিলের ওপর রাখা পরিচয়পত্রে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ এবং ‘১৩তম পার্লামেন্ট’ লেখা দেখা যায়। পরিচয়পত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি, নাম এবং সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়ও দৃশ্যমান।ভিডিওতে হট্টগোলের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন, সাতক্ষীরার জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে, এই মুরুব্বি।’ তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।এর আগে সোমবার রাত থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।প্রথম দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারা ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে এটিকে এআই-নির্মিত নয় বলে দাবি করে।পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। একই দাবি করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারাও।লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন।তার অভিযোগ, তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রহননের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বায়োডাটা, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৭ জুন মরিয়ম খাতুনকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, ২২ জুন তারিখে—অর্থাৎ দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও—মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।ওই বায়োডাটায় গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরও রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে- ‘জোর সুপারিশ করছি’। এ কারণে বিয়ের সময়কাল ও নথিপত্রের তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এদিকে গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি কাবিননামার কপিতে দেখা যায়, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন এবং বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি জানতেন। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে মরিয়ম খাতুনও পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার বৈধ স্বামী। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে তিনি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহও দাবি করেন, গত ১৭ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
২ মাস ১৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যুর কয়েক মাস পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত খামেনির জানাজাকে ঘিরে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।কর্মকর্তারা তেহরান, কোম ও মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালা জুড়ে কয়েক দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন। ইরান সরকার জানাজায় উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জানাজাকে একটি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি।ইরাক নিশ্চিত করেছে, রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়াদের দুটি পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ইউনিটস এই অনুষ্ঠানগুলো কভার করার জন্য স্থানীয় ও বিদেশি গণমাধ্যমকে স্বীকৃতিপত্রের জন্য নিবন্ধন করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানাজা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের একটি সময়সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুসারে, ৩ জুলাই তেহরানে বিদেশি নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানীর ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় প্রকাশ্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।৬ জুলাই রাজধানীতে একটি জানাজা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৭ই জুলাই কোমে, ৮ই জুলাই নাজাফ ও কারবালায় এবং ৯ই জুলাই মাশহাদে আরও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেটিকে ইরানের শিয়াদের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরটি খামেনির নিজ শহর এবং তাকে সেখানেই ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে, যা শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান এবং একটি প্রধান তীর্থস্থান।খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ইরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে এ জানাজার নামাজে অংশ নেবেন এবং এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ২ জুলাই তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনসিপির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনিই তেহরান যাচ্ছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে ইরান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো ভিসা না পাওয়ায় বিমানের টিকিট কাটতে পারেননি। ফলে তিনি কবে এবং কোন ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দলও যাচ্ছে তেহরানে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী ও ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। আগামী ৩ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবে এ দলটি। প্রতিনিধিদলটি ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান সফর করবে।
৩ মাস ৮ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুল-ভাল কথা বলেন দাবি করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন- প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত ভুল-বাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা এতই ভাগ্যবান যে, এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়-এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে নেতাকর্মীরা এ সময় ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও পদ্মলোচন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য সত্যিই আমার কষ্ট হয়। ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে বলেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে। এগুলো সব মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চুষবে না।সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চোর, ছিনতাইকারী, নারী-শিশু ধর্ষণকারী ও অন্যান্য অপরাধীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।অলি আহমেদ বলেন, মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, পার¯পরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করতে হবে। অন্যের সমালোচনার আগে নিজেদের সংশোধন এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যার পর মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।তিনি বলেন, ডাকাতদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও চোর ও ছিনতাইকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আওয়ামী ডাকাতরা কলকাতায় পালিয়ে গেছে। চোররা এখানে রয় গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।সরকার প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো দায়িত্বেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বানও জানান তিনি।অলি আহমেদ বলেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো অপচেষ্টা ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ¯পষ্ট। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানান এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হবে বলে মনে করি না। এ সময় ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভীত রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে। শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি আপনারা সেটি করতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রমাণ হবে ইসলাম, মুসলমান ও মদিনার ইসলামের কথা বলা কেবল ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা করে বলেন, দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে স্বাধীনতার সূর্য বাংলার আকাশ থেকে অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ হচ্ছে। সীমান্তে হত্যাকানন্ডকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। আমরা এ ধরনের বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। সীমান্তে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে মামুনুল হক বলেন, আপনাকে ব্যক্তি হিসেবে সম্মান জানাই। বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে আপনার প্রতি বিশেষ সম্মান রয়েছে। তবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার শেখ হাসিনার রাজনীতি করবেন না।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।তিনি বলেন, পার্লামেন্ট থেকে সচিবালয় সব জায়গায় হুতুমপেঁচা বসেছে। তারা সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত। কিন্তু আমাদের দল চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।ভারত সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, আমরা বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো হত্যাকান্ড সমর্থন করি না। যেদিন সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে অবৈধভাবে হত্যা করা হবে না, সেদিনই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত অর্থে ন্যায্য ও স্বাভাবিক স¤পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এটি কোনো বাজেট নয়, বরং দলীয় লোকজনের জন্য তৈরি একটি গেজেট। এর মাধ্যমে দেশে চাঁদাবাজিকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এই বাজেটে শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম কিংবা মুগ্ধের আত্নত্যাগের প্রতিফলন নেই। তাই এই বাজেটের প্রতি ধিক্কার জানাই।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, গত ১৭ বছরে দিল্লির গোলামি আপনারা কম করেননি। আপনাদের মন্ত্রী-নেতারা অমিত শাহের পায়ে অর্ঘ্য দিয়ে এসেছেন, মাথানত করে সেজদা করে এসেছেন। তারপরও দিল্লি আপনাদের বিশ্বাস করেনি। অতীত থেকে যদি শিক্ষা না নেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনারা বদলাননি। ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আমাদের ধারণা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির মন্ত্রীদের নিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা তাদের অতীত ভোগান্তি থেকে শিক্ষা নেবেন বা নিয়েছেন। কেন তারা এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় আসতে পারেননি, কী কী কারণে গত ২০ বছর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হারিয়ে দেশ প্রায় একটি ভ্যাসাল স্টেটে পরিণত হয়েছিল, এবং কী কারণে বাংলাদেশের জনগণ গত ১৭ বছর আপনাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি এসব বিষয় তারা উপলব্ধি করেছেন বলে আমাদের ধারণা ছিল।আমরা ধারণা করেছিলাম, আপনাদের ফোনের অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের আইওএস যেমন আপডেট হয়েছে, তেমনি আপনাদের চিন্তাভাবনাও আপডেট হয়েছে। কিন্তু আপনাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য ও কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে, ২০০৬ সালে ক¤িপউটার বন্ধ করে গ্যারেজে রেখে গিয়েছিলেন; সেই ক¤িপউটারে এত বেশি ধুলাবালি জমেছে যে, এখন আর মুছেও সেটিকে সংশোধন করা যাচ্ছে না, বলেন ফুয়াদ।তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলে গেছে, কিন্তু আপনাদের স্বভাব বদলায়নি। আওয়ামী লীগেরও ১৭ বছরে লেজ সোজা হয়নি। আমরা জানি কীভাবে সেই লেজ সোজা করতে হয়। বাংলাদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতির বাইরে যেতে বাধ্য করবেন না। এটি সরকারের জন্যও ভালো হবে না, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও কল্যাণকর হবে না।
৩ মাস ২৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।সমাবেশকে ঘিরে দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে লালদিঘী ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেন জনস্রোতে রূপ নিয়েছে। দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গণরায়ের বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মহাসমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, নির্বাচনসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।সমাবেশ ঘিরে লালদিঘী ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সমাবেশের কার্যক্রম চলমান ছিল এবং একে একে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেবেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরের নেতারা।সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।সমাবেশকে সফল করতে জোটের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কয়েকদিন ধরে চালানো হয় প্রচার-প্রচারণা। ফলে সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
৩ মাস ২৬ দিন আগে
`গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা' শিরোনামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এ বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এবং নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম। বিগত সরকারের আমলের অর্থনৈতিক বিপর্যয়, দুর্নীতি লাগামহীন লুটপাটের ধ্বংসস্তূপ থেকে সামষ্টিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতই ভরসা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া চেনা সংকটের সঙ্গে অস্থির বিশ্ব বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে আনতে চান। এ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলার করতে তুলে ধরেছেন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে নতুন অর্থনৈতিক নীতির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেট পেশের পর এটিকে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতি, উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে এ বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। স্বস্তির বার্তা সাধারণ মানুষের জন্যনতুন বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।এছাড়া খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় প্রতিবার ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে বলে সরকারের দাবি।তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানিতে প্রায় সব ধরনের শুল্ক ও কর তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কর কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।এসব উদ্যোগের ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হলেও সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।কিছু খাতে বাড়বে ব্যয়স্বস্তির পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। সিগারেটের সব স্তরে ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি করায় এর দাম বাড়বে। নিকোটিন পাউচ ও নিকোটিন গ্র্যানুলসের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনচালিত মধ্যম সারির গাড়ির করভার বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়তে পারে। বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, পাঙাশ মাছের ফিলে, কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রড, টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও কিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতিবাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো এর ঘাটতি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকেই নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, অতীত সরকারের সময় ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বর্তমানে সুদ ও ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, উচ্চ রিটার্নসমৃদ্ধ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে এই ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।ব্যবসায়ীদের ইতিবাচক মূল্যায়নঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর হ্রাস, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর সুবিধা এবং অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।তবে তিনি করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখার সমালোচনা করে বলেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি অন্তত ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন ছিল।ডিসিসিআইর মতে, ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তাবিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মানবিক অর্থনীতি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং যুব উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক কাঠামো এখনো দুর্বল। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাস্তবায়ন সক্ষমতার তুলনায় বড় বাজেট ঘোষণার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ফলে ঘোষিত বাজেটের পুরোটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে কিছু ক্ষেত্রে কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সমন্বিত ও কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।তার মতে, মূল্যস্ফীতি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জেও পরিণত হয়েছে। তাই রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় জরুরি।রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও মিশ্রপ্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও ভিন্নমত দেখা গেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বাজেটটি অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর এবং এতে দরিদ্র মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তার অভিযোগ, এই বাজেটে ধনীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে, অথচ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের করের চাপ কমেনি।অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলে প্রকৃত ঘাটতি সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হবে।বাস্তবায়নের পথে সাত বড় বাধাবিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের সামনে অন্তত সাতটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ ও সুদের বাড়তি চাপ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ হার আরও কমে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, এবারের বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।তবে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস বলছে, বড় বাজেট ঘোষণা করাই সাফল্যের মাপকাঠি নয়। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো সেই অর্থ দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করা, রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া।সেই অর্থে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে একদিকে স্বস্তির প্রতিশ্রুতির বাজেট বলা যায়, অন্যদিকে এটি নতুন সরকারের সক্ষমতা যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা। আগামী এক বছরে বাজেটের ঘোষণাগুলো কতটা বাস্তবে রূপ পায়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে কি না।
৩ মাস ২৮ দিন আগে